Skip to main content

Famous IT company

 

At the head office of a famous IT company |বিখ্যাত একটি আইটি কোম্পানির হেড অফিসে ইন্টারভিউ চলছে।





✅বিখ্যাত একটি আইটি কোম্পানির হেড অফিসে ইন্টারভিউ চলছে। বিশাল কাঁচঘেরা কনফারেন্স রুম। সাদা দেয়াল, দেয়ালে ঝোলানো বিশ্বমানচিত্র, আর সামনে বসা পাঁচজন অভিজ্ঞ বোর্ড মেম্বার। মাঝখানে বসে আছেন চেয়ারম্যান নিজে।





প্রার্থীদের একে একে ডাকা হচ্ছে। এখন যে নামটি উচ্চারণ করা হলো— "কেবল কান্ত দাস"।


হালকা প্যান্ট-শার্ট পরে, হাতে পুরনো একটা ফাইল নিয়ে ভিতরে ঢুকল ছেলেটা। দেখতে চেহারায় কোন চাকরিপ্রার্থী বলেই মনে হয় না। সাধারণ, কিন্তু চোখদুটো অদ্ভুতভাবে আত্মবিশ্বাসী।



চেয়ারম্যান প্রশ্ন করলেন,

– “তুমি তো খুব সাধারণ একটা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছো। তোমার এই পদের জন্য যোগ্যতা আছে মনে করো?”




ছেলেটা বলল,

– “স্যার, আমি প্রতিদিন রাত ২টা পর্যন্ত দোকানে জুতো পালিশ করেছি। সকাল ৬টায় উঠে ক্লাসে গিয়েছি। হোস্টেলে থাকার টাকাও জোগাড় করতাম জুতো পালিশ করেই। কিন্তু আমার চোখে স্বপ্ন ছিল, আর হাতে ছিল কীবোর্ড। আমি জানি, অন্যদের মতো বড় ডিগ্রি নেই আমার, কিন্তু আমি যা শিখেছি, বাস্তব থেকে শিখেছি।”



বোর্ড মেম্বারদের একজন কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করলেন,

– “তুমি কবে থেকে জুতো পালিশ শুরু করেছিলে?”


ছেলেটা বলল,

– “আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ঘর ভেঙে পড়ল। খাবার জোটানো দায় হয়ে গেল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই, পড়াশোনা ছাড়বো না। তাই দিনের বেলায় পড়াশোনা, রাতে বা ছুটির দিনে স্টেশনে গিয়ে জুতো পালিশ করতাম। একদিন একজন বিদেশি ভদ্রলোক তার জুতো পালিশ করতে দিতে এসে আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমি ইংরেজিতে উত্তর দিলাম, তিনি চমকে উঠলেন। আমাকে একটা পেনড্রাইভ উপহার দিলেন—ভেতরে ছিল কিছু প্রোগ্রামিং টিউটোরিয়াল।”




চেয়ারম্যান এবার একটু সরে বসলেন।

– “তাহলে তুমি স্বশিক্ষিত প্রোগ্রামার?”


– “হ্যাঁ স্যার। স্টেশনের পাশের ছোট একটা সাইবার ক্যাফেতে গিয়েছি সময় পেলে। ইউটিউব দেখে দেখে কোড শিখেছি। আর অনলাইন কোডিং প্ল্যাটফর্মে সমস্যা সলভ করেছি। প্রথমবার প্রাইজ জিতেছিলাম ৫০০ টাকা, সে টাকা দিয়েই মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনেছিলাম।”




বোর্ডে হালকা হাসির ঢেউ বয়ে যায়। এক সদস্য বললেন,

– “তোমার জীবনটাই তো একটা প্রোগ্রাম, যেখানে তুমিই ডেভেলপার!”


ছেলেটা মাথা নিচু করে একটু মুচকি হাসল।



চেয়ারম্যান এবার জিজ্ঞেস করলেন,

– “এই চাকরিটা তুমি কেন পেতে চাও?”


ছেলেটা এবার একটু থেমে বলল,

– “কারণ আমি জানি, এই চেয়ারটা আমার প্রাপ্য না। কিন্তু এই পরিশ্রমটা আমার প্রাপ্য। আমি চাই আমার ছোট ভাইটা যেন কখনো স্টেশনে গিয়ে জুতো পালিশ না করে। আমি চাই আমার মা যেন মাথা উঁচু করে বলতে পারেন, ‘আমার ছেলেটা এখন অফিসে বসে কীবোর্ড চালায়।’”




ঘরে আর কেউ কিছু বলতে পারল না। কয়েক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা।





চেয়ারম্যান ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠলেন, সামনে গিয়ে ছেলেটার হাতে হাত রেখে বললেন,

– “তোমার মতো ছেলে আমাদের কোম্পানির গর্ব হতে পারে। তুমি নিয়োগপ্রাপ্ত, কেবলকান্ত দাস। আর তুমি শুধু কীবোর্ড নয়, অনেক হৃদয় জয় করে নিয়েছো আজ।”


ঘরে করতালির শব্দ উঠল। একেকটা শব্দ যেন সমাজের প্রতিটা দরজায় কড়া নাড়ল।


আর কেবল কান্ত দাস —একজন জুতো পালিশ করা ছেলে, সেইদিন অফিস থেকে বের হলো—সেই চোখে স্বপ্ন আর হাতে অফার লেটার নিয়ে।




জীবনের শুরু কোথা থেকে হয়েছে তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো—তুমি কোথায় পৌঁছাতে চাইছো, আর পৌঁছানোর জন্য তুমি কতটা চেষ্টা করছো। সুযোগ যদি না-ও আসে, প্রস্তুত থাকো—তোমার প্রস্তুতিই একদিন সুযোগ তৈরি করে দিবে।


**It doesn't matter where you start in life. What matters is where you want to go and how hard you work to get there. Even if the opportunity doesn't come, be prepared - your preparation will create the opportunity one day**



More related topics



Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books


Hard times are your greatest opportunity |কঠিন সময়টাই তোমার সবচেয়ে বড় সুযোগ!







Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...