সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্য

The universe is distant even at the speed of light Human wonder on the way to Proxima Centauri

  আলোর গতিতেও দূর মহাবিশ্ব প্রক্সিমা সেন্টোরির পথে মানুষের বিস্ময় | The universe is distant even at the speed of light: Human wonder on the way to Proxima Centauri মহাবিশ্বের বিশালতা বোঝার জন্য মানুষ হাজার বছর ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। রাতের আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রকে কাছাকাছি মনে হলেও বাস্তবে তাদের মধ্যকার দূরত্ব এতটাই বিশাল যে তা কল্পনাকেও হার মানায়। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের সেই বিস্ময়কর সত্যের সামনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে এমনকি মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি—আলোর গতি—ব্যবহার করেও নিকটতম নক্ষত্রে পৌঁছাতে বহু বছর সময় লাগে। এই সত্য কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়, বরং মানুষের অস্তিত্ব ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে গভীর অনুভূতির জন্ম দেয়। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯৯,৭৯২ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। এটি এমন এক অবিশ্বাস্য গতি, যা পৃথিবীকে মাত্র এক সেকেন্ডে প্রায় সাড়ে সাতবার প্রদক্ষিণ করতে সক্ষম। তবুও এই গতি মহাকাশের বিশালতার তুলনায় ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। কারণ পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্রমণ্ডল প্রক্সিমা সেন্টোরি থেকে আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ৪.২৪ ...

When will you have children

When will you have children?' In Bengal, the issue of 'marriage' || 'বাচ্চা নেবে কবে?' বঙ্গদেশে 'বিবাহ' বিষয়টা আদপেই অত্যন্ত গুরুত্বহীন বিষয়। 


মূল লক্ষ্য বাচ্চা। 'দাম্পত্য' শব্দের মানে জিজ্ঞেস করলে এখানে বেশিরভাগ লোকই যুগলে বৈবাহিক যাপন নয়, 'বাচ্চা নেওয়া' বোঝেন।




 যেন বিয়ে করা হয়েছে একসাথে থাকার জন্য নয়, নিজেদের মধ্যেকার সম্পর্ক বোঝাপড়া মজবুত করার জন্য নয়, কেবল বাচ্চা নেবার জন্য। কি এক অদ্ভুত যুক্তিতে লোকে মনে করে বাচ্চা না হওয়া অব্দি মাত্র দুটো মানুষ সম্পূর্ণ হতেই পারেনা, দুটো মানুষের পরিবার? সে তো সোনার পাথরবাটি। অতএব চারিপাশ হতে উপদেশ ভেসে আসে 'You should start a family'। ভেবেছিলাম এ বিষয়ে লিখব না। তবে লিখছি তাতে যদি দুজনের মানসিকতাও বদলায়, তা সমাজের জন্য শুভ হবে।


বউভাতের রাত থেকে এই অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত কুরুচিকর নাক গলানো শুরু হয়। তারপর সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে ঘুরতে যাওয়া আড্ডা, ন পিসির ছোট ননদ থেকে পাড়ার পুটু, বিয়েবাড়ি থেকে শ্রাদ্ধবাড়ি কিছু লোকের জীবনে নাওয়া খাওয়া উড়ে যায় শুধু একটাই চিন্তায়- 'বাচ্চা নেবে কবে?' Golpo



যেন বাচ্চা Amazon এর কার্টে এড করে রাখাই আছে, অর্ডারটা প্লেস করে দিলেই হয়। সম্ভবতঃ আমরাই একমাত্র দেশ যেখানে লোকে বিবাহিত নারী দেখলেই 'কেমন আছো', 'কেমন সময় কাটছে', 'কোথায় ঘুরতে যাচ্ছো' 'নতুন কী পড়লে' 'নতুন কী সিনেমা নাটক দেখলে' মার্কা প্রশ্ন না করে, জিজ্ঞেস করে বসেন 'এই, বাচ্চা নিচ্ছ কবে?' কারোর PCOD বা বয়স বেশি হলে তো সোনায় সোহাগা। ভাবখানা এমন যেন ওদের বাড়িতে ঘড়ি নেই, আপনার বায়োলজিকাল ক্লকই ওদের ড্রয়িং রুমে টিকটিক করে বাজছে। এ বাদে অতিরিক্ত অসাধারণ কিছু উপদেশ তো রয়েইছে... উদাহরণস্বরূপ স্বামী স্ত্রীর ঝগড়াঝাটি? বাচ্চা নিয়ে নাও। স্বামী স্ত্রীর দারুণ প্রেম? বাচ্চা নিয়ে নাও। শাশুড়ির বয়স কম? বাচ্চা নিয়ে নাও। শাশুড়ির বয়স বেশি? বাচ্চা নিয়ে নাও। অবসর সময় আছে? বাচ্চা নিয়ে নাও। খুব ব্যস্ত? বাচ্চা নিয়ে নাও। সদ্য বিয়ে? দেরী করোনা বাবা! বাচ্চা নিয়ে নাও। অনেকদিন বিয়ে? আর কবে হবে, বাচ্চা নিয়ে নাও। খুব মোটা? বাচ্চা নিয়ে নাও। খুব রোগা? বাচ্চা নিয়ে নাও। বন্ধুর বাচ্চা হয়নি? দেখেচ, আজকাল কত সমস্যা। তুমি নিয়ে নাও। বন্ধুর বাচ্চা হল? তোমারটা কবে হবে? এবার নিয়ে নাও। বদহজমের ধাঁচ? বাচ্চা নিয়ে নাও। কোনো রোগটোগ নেই? বাচ্চা নিয়ে নাও। পশ্চিমবঙ্গ লাটে উঠছে? বাচ্চা নিয়ে নাও... জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে? বাচ্চা নিয়ে নাও। একটা আছে? আর একটা নিয়ে নাও।





আচ্ছা, আপনারা ভেবে দেখেছেন যাদের ক্রমাগত বাচ্চার কথা বলে আপনারা মাথা খারাপ করে দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে কারোর সত্যিই শারীরিক/মানসিক কোনো সমস্যা আছে কিনা? তার মিসক্যারেজের ইতিহাস আছে কিনা, কেউ দিনের পর দিন দুটো রেখা দেখার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে কিনা, কারোর সঙ্গীর সাথেই সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের মুখে কিনা, কারোর অর্থনৈতিক কোনো অসুবিধে আছে কিনা, কেউ কেরিয়ারের খুব জরুরি জায়গায় দায়বদ্ধ কিনা, কোনো সামাজিক বা পারিবারিক সমস্যা আছে কিনা? আসলে আমরা এই অসভ্য সমাজে বাঁচতে গিয়ে, এই নির্লজ্জ সময়ের ধারক হতে গিয়ে ভুলেই যাই গেছি আমাদের কাছে যে প্রশ্নটা কৌতুকের, কারোর কাছে তা রক্তপাতের হতে পারে। আমার কাছে যে জিজ্ঞাসা সাধারণ, কারোর কাছে তা বিপর্যয়ের হতে পারে। আমার জন্য যে প্রসঙ্গ নিছক কৌতুহলের, অন্যের কাছে তা অস্বস্তির হতে পারে। সর্বোপরি আমার কাছে যা উপদেশের, কারো কাছে তা সম্পূর্ণ অযাচিত হতে পারে। 



আর সবকিছুর চাইতেও বড় কথাটা এই যে পৃথিবীতে সমস্ত কিছুর একটা প্রস্তুতি থাকে। মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পড়াশোনা ও প্রস্তুতি থাকা দরকার। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, বি এ, এম এ- ভাল রেজাল্টের জন্য যেমন একটা অধ্যাবসায় থাকা দরকার, ঠিক তেমনি। একথা বললেই একদল মানুষ রে রে করে বলতে আসবেন, 'এসব ন্যাকামির কথা। আমরা যেন মা বাপ হইনি?' হ্যাঁ হয়েছেন। প্রাকৃতিক ভাবে হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতে হয় বলে হয়েছেন, নিজে বেছে নেননি। ফলত: কখন যে একটা ট্রমা ভর্তি, মেন্টাল হেলথের ধ্বজা ওড়ানো জেনারেশন তৈরী হয়েছে বুঝতেই পারেননি। কখন যে বাচ্চা মানুষ করতে গিয়ে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে সমীকরণ পাল্টে গেছে ধরতেই পারেন নি। কষ্ট পেয়েছেন, বলতে পারেন নি। তা বাদে এখন সময় বদলেছে। 


AI এর যুগে 2Gর প্রযুক্তি চলবে কেন? অতএব র‍্যাগিং মার্কা মানসিকতা থেকে সরে আসুন। 'দ্যাখ কেমন লাগে'র অসুস্থতা থেকে সরে আসুন। কারোর বাচ্চা না থাকলে, বাচ্চা 'হচ্ছেনা' বলা বন্ধ করুন। বাচ্চা হওয়া না হওয়ার ওপর একটি বৈবাহিক সম্পর্কের সাফল্য নির্ভর করেনা। তাছাড়া বাচ্চা নেওয়াটা যেমন একটা নির্বাচন, বাচ্চা না নেওয়াও কোনো দম্পতির নির্বাচন হতেই পারে। তাতে কোনো মহাভারত অশুদ্ধ হয়না বরং গতানুগতিকের বিপরীতে যেতে পারা অন্য এক আধুনিক মননই প্রতিষ্ঠিত হয়। বরং কারোর অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়কে ড্রয়িংরুমে, লোকসমক্ষে নিয়ে আসা কুরুচিকর। সে সময় ব্যায় না করে পড়ুন, জানুন। 




হ্যাঁ, বাচ্চা নেবার জন্যেও পড়াশোনা করতে হবে, নিজেদের তৈরী করতে হবে। সচেতনতা আনতে হবে। জরুরী রক্তপরীক্ষাগুলো করে নিতে হবে। জরুরী ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট শুরু করতে হবে। ফিজিকাল মেন্টাল এক্সারসাইজ করতে হবে। আমি ভাগ্যবান যে আমার সঙ্গী এ বিষয়ে কারোর কথা শোনেনি বরং সন্তান পরিকল্পনার আগে আমাকে সময় নিতে বলেছে, তৈরী হতে সাহায্য করেছে। আমরা দুজনেই সমস্ত জরুরী রক্তপরীক্ষা করেছি, দুজনে নিয়মিত জিম করেছি, ডায়েট ঠিক করেছি। আমার রক্তাল্পতার ধাঁচ, আয়রন ট্যাবলেট সহ্য হয়না তাই প্রেগনেন্সি প্ল্যানিং এর আগে আয়রন ইনফিউশন নিয়েছি।


 Surajit সবসময় বলেছে বাচ্চা প্ল্যান করার আগে মেয়েদের অনেক বেশি ফিজিকালি স্ট্রং হওয়া দরকার কারণ বাচ্চার জন্ম, ব্রেস্ট ফিডিং, অধিকাংশ সময় কোলে নেওয়া ইত্যাদির জন্য অনেক বেশি ধকল হয়, তার জন্য প্রস্তুতি জরুরী। আমি সে সুযোগ পেয়েছি। মাল্টিভিটামিন, ফলিক এসিড আগে থেকেই শুরু করেছি, সব জায়গা ইভ্যালুয়েট করেছি। দুজনে অনেক ঘুরতে গেছি, সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি, জরুরী বই পড়েছি, পডকাস্ট শুনেছি, স্ট্রেস ফ্রি থেকেছি... সর্বোপরি লোকের কথায় কান দেওয়া বন্ধ করেছি। আর সেটা পেরেছি দুজনের মধ্যে একটা পারষ্পরিক মিল, মজবুত সম্পর্ক আছে বলে। তাই আপনার থেকে পরামর্শ না চাইলে বিয়ের পরেই যুগলকে বাচ্চা নিতে মাথাখারাপ না করে, দাম্পত্য জীবনে একটা পোক্ত সম্পর্ক যাতে তৈরী হয় সে বিষয়ে জ্ঞান দিন। সুন্দর সময় কাটাতে বলুন। জরুরী পরীক্ষা করে তবেই যাতে সন্তান পরিকল্পনা করা হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করুন। আর কিছু পুরুষকে বলছি, স্ত্রী কে এই অসভ্য মানসিকতার প্রতিবেশী পরিজনের কাছে একলা ছেড়ে না দিয়ে পাশে থাকুন। সর্বোপরি পরিবর্তিত অবস্থাকে বোঝার মত, অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার মত, অন্য ভাবনাকেও জায়গা দেবার মত সংবেদনশীল হ'ন।




More related topics




Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books


A person who dies from a ten-minute chest pain| দশ মিনিটের বুকে ব্যথায় যিনি মারা যাচ্ছেন





মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ