Skip to main content

How to forget love bangla golpo

 

যে তোমাকে অবহেলা করে, তাকেই অবহেলা করতে শেখো। এবং শিখে নাও |Learn to ignore the one who ignores you. And learn to ignore the one who ignores you.





কীভাবে ভালোবাসা ভুলে যেতে হয়।


এই কথাগুলো শুনতে কঠিন, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার এক তীব্র বাস্তবতা। আমরা মানুষ, সম্পর্ক আমাদের জীবনজুড়ে জড়িয়ে আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সবাই তোমাকে যেভাবে ভালোবাসার কথা ছিল, সেইভাবে বাসে না। অনেকে কেবল তোমার উপস্থিতি ব্যবহার করে—তোমার ভালোবাসা, সময়, সহানুভূতি, শ্রদ্ধা—সবকিছু নেয়, কিন্তু বিনিময়ে দেয় না কিছুই। তারা অবহেলা করে, উপেক্ষা করে, অথচ তুমিই দিনশেষে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকো।



কিন্তু কবে তুমি বুঝবে—তুমি আর নিজের হৃদয়ের ওপর এই অবিচার চালাতে পারো না? প্রতিবার সেই মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া, যে তোমার অস্তিত্বকেই অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে—এটা আর ভালোবাসা নয়, এটা আত্ম-অবমাননা।



আমরা অনেক সময় ভাবি, ভালোবাসা মানেই সহনশীলতা, মানেই চুপচাপ সব সহ্য করে যাওয়া। কিন্তু না। ভালোবাসা মানে নিজেকেও ভালোবাসা। এবং যেই ভালোবাসা তোমাকে নিঃশেষ করে দেয়, সেটা থেকে সরে আসাও এক ধরনের আত্মরক্ষা।



এখানেই আসে ‘ভালোবাসা ভুলে যাওয়া শেখা’-র কথা। কেউ যদি বারবার তোমার ভালোবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদি সে প্রতিবার তোমাকে একা ফেলে, বারবার তোমার মূল্য ভুলে যায়—তাহলে তাকে ভালোবাসতে থাকা কোনো বীরত্ব নয়, বরং নিজের হৃদয়ের প্রতি এক ধরনের নিষ্ঠুরতা। তখন শিখতে হবে কীভাবে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিতে হয়, কীভাবে সেই ভালোবাসাকে আস্তে আস্তে বিদায় জানাতে হয়—নীরবে, দৃঢ়ভাবে, সম্মানের সাথে।



অনেকে বলে, “ভালোবাসা ভুলে যাওয়া কি এত সহজ?” না, সহজ নয়। বরং এটি একটি কঠিন প্রক্রিয়া। তবে প্রতিটি দিন, প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি অবহেলা তোমাকে সেই শিক্ষায় অভ্যস্ত করে তুলবে। প্রথমে কষ্ট হবে, তারপর সেই কষ্টটাই একদিন জ্ঞান হয়ে দাঁড়াবে।



এই ভালোবাসা ছাড়ার শিক্ষায় তোমাকে শিখতে হবে কিভাবে নিজেকে পুনরায় ভালোবাসবে। তুমি নিজেই তো অনেক বেশি মূল্যবান। যার চোখে তোমার গুরুত্ব নেই, তার চোখে পড়ে থাকতে নেই। যে তোমার অনুপস্থিতিতে শান্তিতে থাকে, তার উপস্থিতিতে কষ্ট পেতে নেই। যে তোমাকে তার সময় দিতে জানে না, তার জন্য তোমার রাত জেগে কাঁদতে নেই।



এই শিক্ষা হলো আত্মসম্মানের শিক্ষা। যে মানুষ নিজের সম্মান বুঝে না, সে ভালোবাসাও বুঝবে না। তুমি যদি বারবার এমন মানুষের পেছনে সময় দাও, যে তোমার খোঁজ রাখে না, তাহলে তুমি আস্তে আস্তে নিজের অস্তিত্বকে ভুলে যাবে। আর যে নিজেকে ভুলে যায়, সে আর ভালোবাসা দিতে পারে না—না অন্যকে, না নিজেকে।




তাই আজ না হয় দাঁড়াও। নিজের জন্য। নিজের শান্তির জন্য। সে যদি তোমাকে উপেক্ষা করে, তবে তুমি তাকে উপেক্ষা করো। প্রথমে কঠিন লাগবে, কিন্তু দিনশেষে এটাই তোমার মুক্তির পথ হবে। আর যদি আজ না শিখো কিভাবে ভালোবাসা ছাড়তে হয়, তবে তুমি সারাজীবন এমন কারো জন্য কাঁদবে—যে তোমার কান্নার কারণ হওয়ারও যোগ্য নয়।



এই পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা তোমার ভালোবাসাকে সযত্নে রাখবে। যারা তোমার হাসিকে গুরুত্ব দেবে, যারা তোমার ক্লান্ত চোখে জলের অর্থ বুঝবে। কিন্তু তারা আসবে তখনই, যখন তুমি সেই পুরনো অবহেলাকে বিদায় জানাবে। যখন তুমি নিজেকে বলবে, “আমি আর নিজেকে ছোট করব না, আর না!”


ভালোবাসা মানেই আটকে থাকা নয়। ভালোবাসা মানে নিজের শ্রদ্ধাকে বাঁচিয়ে রাখা। আর সেই শ্রদ্ধার জন্য দরকার হলে কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়াই শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত।


তাই মনে রেখো—যে উপেক্ষা করে, তাকে উপেক্ষা করো। আর যাকে ভালোবাসা তোমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, তাকে ভালোবাসা ছাড়তে শেখো। কারণ তুমি সেটার চেয়েও বেশি প্রাপ্য—যা কেবল তুমি নিজেকেই দিতে পারো। 




More related topic




Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books



মাছ মাংস খেতে নেই কেন?কোন শাস্ত্রে আছে?প্রমাণ চাই! Why is it not permissible to eat fish and meat?



Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...