Skip to main content

I wasn't feeling well bangla golpo

 

I wasn't feeling well, so I woke up a little late. When I arrived at the pond, I saw ||শরীরটা ভালো লাগছিলো না তাই ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেলো। পুকুরঘাটে এসে দেখি 








শ্বাশুড়ি হাড়ি পাতিল পরিষ্কার করছে। আমি যখন শ্বাশুড়িকে বললাম,

--মা,  আপনি কেন এইগুলো পরিষ্কার করছেন? আমিই তো একটু পর পরিষ্কার করতাম।

শ্বাশুড়ি রেগে গিয়ে পাতিলটা আছাড় মেরে বললো,

-"আমার কপাল যে খুব ভালো তাই শখে এইকাজ গুলো করছি। ছেলেকে বিয়ে করানোর আগেও আমি এই সংসারে বান্দীগিরি করেছি। আর বিয়ে করানোর পরেও এই সংসারে বান্দীগিরি করা লাগছে।"


আমি কিছু না বলে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম।  শ্বাশুড়ি তখন আরো রেগে গিয়ে বললো,

-"আমার সামনে এইভাবে তালগাছের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে যাও তো"


আমি আর কিছু না বলে উনার সামনে থেকে চলে গেলাম। বারান্দায় বসে আছি আর ভাবছি আমার অন্যায়টা কোথায়?  শ্বাশুড়ি সারাক্ষণ আমায় কেন ঝাড়ির উপর রাখে? কোন কাজ করতেও দিবে না আবার আমি কাজ না করলেও বকা দিবে।  

একটু পর দেখি শ্বাশুড়ি  হাড়িপাতিল গুলো পরিষ্কার করে বারান্দায় রাখলো। আমায় বসে থাকতে দেখে ধমক দিয়ে বললো,

-"বলি এইভাবে বকের মতো এক পা তুলে বসে না থেকে বাড়ির উঠানটা তো একটু ঝাড়ু দিতে পারতে। চোখ মেলে কি দেখা যায় না উঠান জুড়ে কত ময়লা পড়ে আছে।"







আমি ঝাড়ুটা হাতে নিয়ে বললাম,

--এখনি মা আমি ঝাড়ু দিয়ে দিচ্ছি।


শ্বাশুড়ি আমার হাত থেকে ঝাড়ুটা কেড়ে নিয়ে বললো,

-"থাক তোমার আর ঝাড়ু দিতে হবে না।  তুমি ঝাড়ু দিলে তো আবার উঠান পরিষ্কার হয় না। ঝাড়ু আমি দিচ্ছি তুমি উনানে আগুনটা একটু ধরাও আমি এসে রান্না বসাবো"


শ্বাশুড়ির কথাশুনে আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,

--মা, এই রোজার সময় এতো সকালে রান্না বসাবেন? বিকালের দিকে রান্না বসালেই হবে। তাহলে সন্ধ্যা পরেও ভাত গরম থাকবে। এখন ভাত রান্না করলে ঠান্ডা হয়ে যাবে। 


শ্বাশুড়ি আমায় আবার একটা ঝাড়ি দিয়ে বললো,

-"তোমায় যা করতে বলছি করো। এতো মাতব্বরি  করতে হবে না তোমাকে"


আর আর কিছু না বলে পাকাঘরে চলে গেলাম। উনানে অনেকক্ষণ ধরে আগুন জালাবার চেষ্টা করছি কিন্তু আগুন ধরছে না। শুধু ধোয়া বের হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর শ্বাশুড়ি এসে নিজের কপাল নিজে চাপরে বললো,

-"কোন শখে যে মোড়ল বাড়ির মেয়েকে ঘরের বউ করে এনেছিলাম ভগবান  জানে। যে মেয়ে উনানে আগুন পর্যন্ত ধরাতে পারে না সেই মেয়ে কিনা আবার সংসার করে খাবে। যাও মেয়ে তুমি ঘরে তোমার স্বামীর কাছে যাও। আমি তো আছিই বান্দীগিরি করার জন্য"


শ্বাশুড়ির কথাগুলো কেন জানি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই রাগেই উনার সামনে থেকে চলে আসলাম। ঘরে যখন মনমরা হয়ে বসে ছিলাম তখন স্বামী এসে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে আমায় বললো,

-"কি হলো মন খারাপ করে বসে আছো কেন?"

আমি বললাম,

--আমি বুঝতে পারছি না আপনার মা কেন আমায় সারাক্ষণ বকাঝকা করে। আমায় কোন কাজ করতে না দিয়ে উনিই সব কাজ করবে আবার নিজেই বলবে উনি নাকি এই সংসারের কাজের লোক

আমার স্বামী তখন হেসে বললো,

-"আরে আমার মায়ের কথায় কিছু মনে করো না। মা এমনি একটু খিটখিটে মেজাজের। তবে আমার মায়ের মনটা খুব ভালো। আচ্ছা আমি একটু দরকারে বাজারে গেলাম। গরুগুলো না খেয়ে আছে। যদি পারো গরুগুলোকে খেতে দিও।"


কথাটা বলে স্বামী চলে গেলো। আমি গরুগুলোকে খড় দিচ্ছিলাম।  এমন সময় শ্বাশুড়ি ছুটে এসে বললো,

-" তুমি গরুকে খাওয়াচ্ছো কেন? ঘরের ভিতর যে একটা গরু আছে সেই গরুটা কই?"

শ্বাশুড়ির কথা শুনে আমি কেন জানি হেসে দিলাম। শ্বাশুড়ি যখন রাগী চোখে আমার দিকে তাকালো তখন আমি আমতা-আমতা করে বললাম,

-- কি একটা দরকারে উনি একটু বাজারে গেছেন। আমায় বললো গরুগুলোকে খাবার দিতে।


আমার কথা শুনে শ্বাশুড়ি বিড়বিড় করে কি যেন একটা বললো। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

-"রান্না হয়ে গেছে। তুমি হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নাও।"


শ্বাশুড়ি কথা শুনে আমি অবাক হয়ে বললাম,

--না মা আমি তো...

শ্বাশুড়ি আমায় থামিয়ে দিয়ে বললো,

-"বিস্কুট খেয়ে দিন পার না করে ভাত খেয়ে নাও। আমি শ্বাশুড়ি হলে কি হবে আমিও তো মেয়ে মানুষ। আমি তো বুঝি সব। আর মেয়ে মানুষের প্রতি মাসে মাসিক হবে এটা স্বাভাবিক। এইসময় উপাস রাখা যায় না। তোমার যেহেতু এই সমস্যাটা হয়েছে এখন উপাস না করে আমার ভয়ে  রাখার অভিনয় করতে হবে নাকি? যাও মা তুমি খেয়ে নাও আমি গরু গুলোকে খাওয়াচ্ছি।"








ঘরে এসে দেখি শ্বাশুড়ি ভাত তরকারি বেড়ে রেখেছে। আমি ভাতের প্লেটটা হাতে নিয়ে যখন খেতে যাবো তখন শুনি আমার শ্বাশুড়ি আমার স্বামীকে সমানে বকে যাচ্ছে আর বলছে,

-" আমি এতো শখ করে মোড়ল বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করিয়ে এনেছিলাম গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নাকি? তুই কোন সাহসে ঘরের বউকে বলিস গরুকে ঘাস খাওয়াতে? তুই কি তোর বাপের মতো তোর বউকেও এই সংসারে বান্দীগিরি করাতে চাস? তোর বাপ তো সারাজীবন আমারে দিয়ে এই সংসারে বান্দীগিরি করিয়েছে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে তুই তোর বউয়ের সাথে এমন করতে পারবি না। তোর বাপ যা আমার সাথে করছে। অনেক শখ করে ফুলের মতো মেয়েটাকে এই বাড়ির বউ করে এনেছি"


আমি শ্বাশুড়ির কথাগুলো শুনছিলাম আর নিরবে চোখের জল ফেলছিলাম। আমার অজান্তেই আমার শ্বাশুড়ি আমায় কতটা ভালোবাসে অথচ কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত আমি তার ভালোবাসাটা বুঝি নি। আমি শুধু উনার খিটখিটে মেজাজটাই দেখেছি।  মনের ভিতর ভালোবাসাটা বুঝি নি....


পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দিখে শ্বাশুড়ি উঠান ঝাড়ু দিচ্ছেন। আমি তখন শ্বাশুড়িকে বললাম,

--মা আপনি কেন ঝাড়ু দিচ্ছেন? আমিই তো ঝাড়ু দিতাম।

শ্বাশুড়ি রেগে বললো,

-"বান্দীর কপাল নিয়ে জন্মাইছি তো তাই বান্দীগিরি করছি"

শ্বাশুড়ির কথা শুনে আমি জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। শ্বাশুড়ি আমার হাসি দেখে ঝাড়ু আছাড় মেরে ফেলে দিয়ে বারান্দায় বসে বললো,

-"করলাম না এই সংসারে বান্দীগিরি।"


আমি উঠান ঝাড়ু দিচ্ছি আর মুচকি মুচকি হাসছি। শ্বাশুড়ি বারান্দায় বসে বিড়বিড় করছে আর রাগে জ্বলছে...


আমাদের সংসার জীবনে সব শ্বাশুড়িই যে রিনা  মতো অত্যাচারী হয় তা কিন্তু না। কিছু কিছু শ্বাশুড়ি মনিরা মিঠুর মত খিটখিটে হলেও খুবই মমতাময়ী।



More related story



Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books



পৃথিবীতে একজন নারীর জন্য সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি কী জানেন|Do you know what the most beautiful feeling in the world is for a woman?



Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...