Skip to main content

Titanic the history and maiden voyage of the luxury liner

 Titanic, three ships and three human characters |

টাইটানিক, তিনটি জাহাজ এবং মানুষের তিনটি চরিত্র


Titanic Image


Titanic the history & maiden voyage of the luxury liner

১৯১২ সালের ১৫ই এপ্রিল। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল। বিশ্বের তৎকালীন সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল জাহাজ আরএমএস টাইটানিক বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল। চারদিকে অন্ধকার, হিমশীতল বাতাস, আতঙ্কিত যাত্রীদের আর্তনাদ আর বাঁচার আকুতি। এই ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও তিনটি জাহাজের নাম—স্যাম্পসন, ক্যালিফোর্নিয়ান এবং কারপাথিয়ান। এই তিনটি জাহাজ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এরা মানুষের তিনটি ভিন্ন মানসিকতার প্রতীক।

টাইটানিক যখন বিপদ সংকেত পাঠাচ্ছিল, তখন কাছাকাছি থাকা প্রথম জাহাজটির নাম ছিল স্যাম্পসন। এটি মাত্র সাত মাইল দূরে অবস্থান করছিল। দূরত্বের হিসেবে সাহায্য পৌঁছানো খুব একটা কঠিন ছিল না। কিন্তু এই জাহাজটি তখন বেআইনিভাবে সিল মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিল। তারা টাইটানিকের বিপদ সংকেত স্পষ্টভাবে দেখেছিল, রকেটের আলো চোখে পড়েছিল, সংকেতের অর্থ বুঝতেও তাদের অসুবিধা হয়নি। তবুও তারা জাহাজের মুখ উল্টোদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যায়, কারণ তারা ভয় পেয়েছিল ধরা পড়ে যাবে, আইনগত ঝামেলায় জড়াবে।

স্যাম্পসন আসলে চরম স্বার্থপরতার প্রতীক। এরা নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যের মৃত্যুকে উপেক্ষা করতে পারে। আমাদের চারপাশে তাকালেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়। কেউ বিপদে পড়লে এরা হিসেব কষে—আমার কী লাভ, আমার কী ক্ষতি। যদি সামান্য অসুবিধার সম্ভাবনাও থাকে, তাহলে সাহায্যের হাত গুটিয়ে নেয়। মানুষের জীবন, আর্তনাদ, কান্না—সবকিছু এদের কাছে গৌণ। স্যাম্পসনের মতো মানুষ সমাজে সংখ্যায় কম নয়, শুধু তাদের পরিচয় আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না।

দ্বিতীয় জাহাজটির নাম ছিল এসএস ক্যালিফোর্নিয়ান। এটি টাইটানিক থেকে প্রায় চৌদ্দ মাইল দূরে ছিল। চারপাশে ছিল ঘন বরফ, সমুদ্র ছিল বিপজ্জনক। ক্যালিফোর্নিয়ানের ক্যাপ্টেন নিজের চোখেই দেখেছিলেন দূরে আলোর সংকেত, রকেট ছোড়া হচ্ছে, কেউ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এখনই কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি ভাবলেন, পরিস্থিতি অনুকূল নয়, ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। তাই তিনি ঘুমাতে গেলেন, এই ভেবে যে সকালে দেখা যাবে কী করা যায়।

শুধু ক্যাপ্টেনই নন, জাহাজের অন্য নাবিকরাও নিজেদের মনকে প্রবোধ দিয়েছিল। তারা বলেছিল, ব্যাপারটা হয়তো এতটা গুরুতর নয়। হয়তো অন্য কেউ সাহায্য করছে। হয়তো ভুল সংকেত। এই মানসিকতাই হলো দায়িত্ব এড়ানোর মানসিকতা। ক্যালিফোর্নিয়ান সেই শ্রেণির মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা সরাসরি নিষ্ঠুর নয়, কিন্তু সাহসের অভাবে নিষ্ক্রিয়। এরা বলে, “এখন সময় নয়”, “পরিস্থিতি ঠিক হলে করব”, “আমার একার দ্বারা কী হবে?” বাস্তবে এই দেরিই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের সমাজেও এমন মানুষ ভরপুর। কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে এরা দূরে দাঁড়িয়ে ভিডিও তোলে, আলোচনা করে, কিন্তু সাহায্য করতে এগোয় না। নিজের নিরাপত্তা, নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, নিজের সুবিধার বাইরে এদের চিন্তা যায় না। এরা স্যাম্পসনের মতো নিষ্ঠুর নয়, কিন্তু কারও জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসও এদের নেই।

এই অন্ধকারের মাঝেও একটি আলোর নাম আছে—কারপাথিয়ান। এই জাহাজটি টাইটানিকের থেকে প্রায় আটান্ন মাইল দূরে ছিল এবং যাচ্ছিল সম্পূর্ণ উল্টো দিকে। দূরত্ব অনেক, পথ কঠিন, বরফে ভরা সমুদ্র ছিল বিপজ্জনক। কিন্তু রেডিওতে যখন টাইটানিকের যাত্রীদের আর্তচিৎকার ভেসে এল, তখন কারপাথিয়ানের ক্যাপ্টেন এক মুহূর্তও দেরি করেননি।

বর্ণনা আছে, তিনি ডেকের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তারপর কোনো অজুহাত না খুঁজে, কোনো লাভ-ক্ষতির হিসাব না কষে, নাবিকদের নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বরফ ভেঙে এগিয়ে চলেন টাইটানিকের দিকে। এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। নিজের জাহাজ ও যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তিনি জানতেন, এই ঝুঁকি না নিলে শত শত মানুষ নিশ্চিত মৃত্যু বরণ করবে।

কারপাথিয়ানের এই সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই টাইটানিকের ৭০৫ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। ইতিহাসে টাইটানিকের নাম যতটা আলোচিত, কারপাথিয়ানের নাম ততটা উচ্চারিত হয় না। কিন্তু মানবতার ইতিহাসে এই জাহাজ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই তিনটি জাহাজ আসলে আমাদের জীবনের তিনটি পথ দেখায়। প্রথম পথ হলো স্বার্থপরতার—যেখানে নিজের সুবিধাই শেষ কথা। দ্বিতীয় পথ হলো দায়িত্ব এড়ানোর—যেখানে মানুষ বিপদ দেখে, কিন্তু সাহস করে এগোয় না। আর তৃতীয় পথ হলো মানবতার—যেখানে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মানুষ অন্যের জন্য দাঁড়ায়।

জীবনে আপনার কাছে দায়িত্ব এড়ানোর জন্য হাজারটি কারণ থাকবে। সময় নেই, ক্ষমতা নেই, পরিস্থিতি অনুকূল নয়—এই অজুহাত সবসময়ই তৈরি থাকে। কিন্তু প্রকৃত মানুষ তারাই, যারা অন্যের বিপদের সময় এসব হিসাব না কষে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা হয়তো ইতিহাসের বইয়ে বড় অক্ষরে লেখা থাকে না, সংবাদ শিরোনাম হয় না। কিন্তু যুগে যুগে তারা বেঁচে থাকে মানুষের মুখে মুখে বলা লোককথায়, গল্পে, বিশ্বাসে।

টাইটানিক ডুবে গেছে একশো বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু স্যাম্পসন, ক্যালিফোর্নিয়ান আর কারপাথিয়ান আজও বেঁচে আছে—আমাদের আচরণে, আমাদের সিদ্ধান্তে, আমাদের মানবিকতায়। প্রশ্ন একটাই, বিপদের সময় আমরা কোন জাহাজটি হতে চাই?



Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books



Artemis II Captures Rare Four-Planet Alignment During Lunar Flyby

Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...