উপেন্দ্রকিশোরের ‘ছেলেদের রামায়ণ’ শিশু সাহিত্য ও মুদ্রণশিল্পে এক বিপ্লবের গল্প |Upendra Kishore's 'The Boys' Ramayana' is a story of a revolution in children's literature and printing.
যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে উপেন্দ্রকিশোরের প্রথম বই “ছেলেদের রামায়ণ” প্রকাশ না পেলে হয়তো মুদ্রণশিল্পী উপেন্দ্রকিশোরকে আমরা পেতাম কিনা সন্দেহ।
অবশ্য ব্যাপারটা যেমন ভাবা যাচ্ছে তেমন নয়। বরং খানিক উল্টোই। তখন এ দেশে ছবি ছাপা হত কাঠের ওপর খোদাই করা ব্লক দিয়ে। উপেন্দ্রকিশোর এই ব্যবস্থা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর ‘ছেলেদের রামায়ণ’ বইটিতে ছিল তাঁরই আঁকা চমৎকার সব ছবি। কিন্তু বই বেরোনোর পর দেখা গেল কাঠের ব্লকে ছাপানোর ফলে সেগুলো সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গেছে। তবে এই বিভ্রাটের অনেক আগেই তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। ছাত্রাবস্থায় জানতে পেরেছিলেন, তামা ও দস্তার পাতে খোদাই করে ছাপলে সুন্দর ও সূক্ষ্ম ছবি পাওয়া যায়। সেই থেকে গবেষণার নিয়ম মেনে পৌঁছে গেলেন হাফটোন প্রসেসের জগতে। সে আলোচনায় না গিয়ে বরং বইটিকে আর একটু কাছে থেকে দেখা যাক।
বইয়ের প্রথম সংস্করণের ভুমিকাতেই উপেন্দ্রকিশোর তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে লিখে দিলেন। “শিশুরা যেরূপ ভাষায় লেখে, এই পুস্তকে সেইরূপ ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হইয়াছে” একথাও বলা আছে যে এই কাজে “শ্রদ্ধাস্পদ বন্ধু শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় দয়া করিয়া একবার দেখিয়া না দিলে, ইহাতে আরও অনেক ত্রুটি থাকিত”। অর্থাৎ নিজের প্রথম বই ছাপানোর আগে বন্ধুকে দিয়ে বেশ কিছু ত্রুটি সংশোধন করিয়ে নিয়েছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। এই ত্রুটি ঠিক কিসের? ভাষার? না তথ্যের? না অন্য কিছু তা জানার উপায় নেই। তবে এই বইটি যে লেখক বা পাঠক কাউকেই সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারেনি, সে বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে বলা যায়। তা না হলে একই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে তিনি কেন লিখবেন “কয়েক বৎসব পূর্বে, ‘ছেলেদেব রামায়ণ’ নাম দিয়া আমি একখানি ক্ষুদ্র শিশুপাঠ্য পুস্তক লিখি৷ উহারই দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হইল৷ কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এখানি একখানি নতুন পুস্তক৷ প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর দেখা গেল যে, পুস্তকখানি শিশুদের উপযোগী করিতে গিয়া, বিষয় অতি সংক্ষিপ্ত হওয়াতে, মূল গল্পের সৌন্দর্যহানি ঘটিয়াছে, এবং সেই দোষ পরিহার পূর্বক লিখিলে ইহার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাইবার সম্ভাবনা; অতএব আবার নতুন করিয়া লিখিলাম”। এইখানে আবার রবি ঠাকুরের কথা ঘুরে ফিরে আসছে। কিন্তু এবার তাঁর সাহায্যের ধরণটা একেবারে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন উপেন্দ্রকিশোর “শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় এই পুস্তক প্রণয়ন বিষয়ে আমাকে যেরূপ উৎসাহ দান ও সহায়তা কবিয়াছেন, সে ঋণ পরিশোধ করিতে আমি সম্পূর্ণ অক্ষম। পুস্তকের পাণ্ডুলিপি এবং প্রুফ তিনি আদ্যোপান্ত সংশোধন পূর্বক ইহার অনেক ত্রুটি দূর করিয়া দিয়াছেন”। এক্ষণে অধুনা দুর্লভ এবং অতি সংক্ষিপ্ত প্রথম সংস্করণটি বাদ দিয়ে আমরা দ্বিতীয়, অপেক্ষাকৃত পূর্ণাঙ্গ রামায়ণের কথাই বলব। অবশ্য এই রামায়ণেও সাতখানি কাণ্ড নেই। একেবারে শেষের উত্তরকাণ্ড (হয়তো প্রক্ষিপ্ত ভেবেই) বাদ দেওয়া হয়েছে।
“এইরূপ করিয়া দেবতা গন্ধর্বের গান আর আনন্দ-কোলাহলের ভিতরে রাম অযোধ্যার রাজা হইলেন। তেমন রাজা আর কেহ কখনও দেখে নাই। আজও খুব ভাল রাজার কথা বলিতে হইলে লোকে বলে, ‘রামের মতন রাজা!’
ব্যাস! রামায়ণ শেষ। লব-কুশ বা সীতার পাতাল প্রবেশ সহ পরের নানা ঘটনা এই বইতে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যতটুকু রেখেছেন সেটাই কিশোর উপযোগী ন্যারেটিভ লেখার এক অনবদ্য টেমপ্লেট হিসেবে থেকে যাবে। প্রথমেই বলি, একেবারে শুরু, মানে যেখানে দস্যু রত্নাকর বাল্মিকী হয়ে উঠছেন, যে গল্প এই রামায়ণে লেখেন নি উপেনবাবু। সে কাহিনি আছে তারই লেখা প্রথম কবি ও প্রথম কাব্য’ গল্পে । এখানে কাহিনিকে শিশুদের উপযোগী কর তুলতে শৃঙ্গাররত দুই বকের ব্যাধের দ্বারা বধ এবং আদিকবির মুখের প্রথম শ্লোক “‘মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ। যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্।“ থেকে কামকে সম্পূর্ণ সরিয়ে উপেন্দ্রকিশোর ব্যবহার করলেন খেলা শব্দকে। কিন্তু তাতে মূল ভাবের কোন ব্যাঘাত ঘটল না। তিনি লিখলেন-
“সেই খানে দুটি বক নদীর ধারে খেলা করিতেছিল। এমন সুন্দর দুটি পাখি এবং তাহাদের এমন মিষ্ট ডাক, আর তাহারা মনের আনন্দে এমনি চমৎকার খেলা করিতেছিল যে দেখিয়া মুনি আর চোখ ফিরাইতে পারিলেন না। পাখি দুটির উপরে মুনির কেমন স্নেহ জন্মিয়া গেল, তিনি স্নানের কথা ভুলিয়া কেবলই তাহাদের খেলা দেখিতে লাগিলেন। এমন সময় কোথা হইতে এক দুষ্ট ব্যাধ আসিয়া পাখি দুটির পানে তীর ছুঁড়িয়া মারিল। এমন সুখে পাখী দুটি খেলা করিতেছিল, তাহাদের কোনো দোষ ছিল না,কোনো বিপদের কথা তাহারা জানিত না। এমন নিরীহ জীবকে বধ করে, এমন নিষ্ঠুরও লোক হয়? তীর খাইয়া পুরুষ পাখিটি যাতনায় ছট্ফট্ করিতে লাগিল, মেয়েটি শোকে আর ভয়ে কাঁদিয়া আকুল হইল। মুনি আর এ দুঃখ সহিতে না পারিয়া ব্যাধকে বলিলেন, “ওরে ব্যাধ, এমন সুখে পাখিটি খেলা করিতেছিল, তাহাকে তুই বধ করিলি? তোর কখনই ভালো হইবে না!”
এই একই কাজ তিনি করেছেন অহল্যার ঘটনায়। তাঁর রামায়ণে অহল্যার ইন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গমের পাপের কথা বলতে গিয়ে তিনি “নিতান্ত অপরাধ” বলেই এড়িয়ে গেছেন। অন্য উপায়-ও ছিল না। বরং অন্য যে সব জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন, উপেন্দ্রকিশোর তাঁর কলমে একের পর এক অদ্ভুত জলরঙের ছবি এঁকেছেন। ছেলেদের রামায়ণ তাই শুরুই হচ্ছে দশরথের অযোধ্যার বর্ণনা দিয়ে। সেই নগরীর গ্রাঞ্জার তাঁর ভাষায় কি দারুণই না ফুটে উঠেছে! কৃত্তিবাস যেমন রামায়ণকে বাঙালির নিতান্ত আপন করে দিয়েছিলেন, উপেন্দ্রকিশোর-ও তাই। ছোট ছোট নানা বর্ণনা পড়ে মনে হয় যেন নিজেদের ঘরের কথা পড়ছি। ক্লাইম্যাটিক দৃশ্যে উপেন্দ্রকিশোরের জুড়ি ছিল না। বইটি পড়লে মনে হয় সত্যিই যেন কেউ পাশে বসে গল্প শোনাচ্ছে। নিবিড় অধ্যায়নে লেখকের গলার উত্থানপতনটুকুও যেন কানে শোনা যায়। বারবার লেখক নিজে গল্পে ঢুকে পড়ছেন। যেমন কথকঠাকুররা পড়তেন। উদাহরণ দিই-
“জনক প্রত্যেক মেয়েকে কী দিয়াছিলেন শুনিবে? প্রত্যেক মেয়েকে তিনি এক-এক লক্ষ গরু দিয়াছিলেন। আর হাতি, ঘোড়া, সিপাহি, সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা, রেশমী কাপড়, কম্বল ইত্যাদি কত যে দিয়াছিলেন, আমি তাহার হিসাব দিতে পারিব না। ইহার উপর আবার এক-এক শত করিয়া সখী, এক-এক শত দাসী, আর এক-এক শত চাকর। এইরূপে আদর যত্ন করিয়া জনক সকলকে বিদায় করিলেন। দশরথও মনের সুখে অযোধ্যায় চলিলেন। এমন সময় দেখ কী সর্বনাশ উপস্থিত! পাখিরা চ্যাঁচাইতেছে, জন্তুরা ছুটিয়া পালাইতেছে, পৃথিবী কাঁপিতেছে, ঝড় বহিতেছে, গাছ ভাঙিয়া পড়িতেছে, সূর্য ঢাকিয়া গিয়াছে, চারিদিক অন্ধকার। সকলে ভয়ে অস্থির, না জানি এর পর কী বিপদ হইবে। বিপদ যে কি, তাহা জানিতেও বিলম্ব হইল না; কারণ তখনই পরশুরাম আসিয়া উপস্থিত হইলেন”
ধীরে ধীরে কাহিনি যত এগিয়েছে উপেন্দ্রকিশোরের বর্ণনা তত চিত্তাকর্ষক হয়েছে। আর যে নতুন একটি উপাদান তিনি এনেছেন, তাঁর নাম হিউমার। সচরাচর ধর্মগ্রন্থে যার অভাবটাই সবার আগে দেখা যায়। আর এখানেই উপেন্দ্রকিশোর অন্য রামায়ণ অনুবাদকদের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে গেছেন। ছোট ছোট কয়েকটা ঘটনার উল্লেখ না করলেই নয়-
“তখন জটায়ু আর রাবণে বিষম যুদ্ধ বাধিয়া গেল। রাবণ জটায়ুকে ভয়ানক ভয়ানক বাণ মারে, আর জটায়ু নখের আঁচড়ে তাহার মাংস ছিঁড়িয়া নিতে ছাড়ে না। রাবণ জটায়ুর বুকে দশ বাণ মারিয়া মনে করিল এইবার পাখি মারবে। কিন্তু পাখি মরা দূরে থাকুক, বরং সে রাবণের ধনুকটা কাড়িয়া লইল, তাহার উপর আবার তাহাকে একটা প্রকাণ্ড লাথিও মারিল”
কিংবা
রাবণ একবার বালীর সঙ্গে যুদ্ধ করিতে গিয়া বড়ই নাকাল হইয়াছিল। রাবণ সকলকে যুদ্ধে হারাইয়া ত্রিভুবন ঘুরিয়া বেড়াইত আর কেহ তাহার সঙ্গে যুদ্ধ করিতে সাহস করিত না। যুদ্ধ করিবার আর লোক না পাইয়া শেষে সে একদিন বালীর সঙ্গে যুদ্ধ করিতে গেল। বালী তখন সমুদ্রের ধারে চোখ বুজিয়া সন্ধ্যা করিতেছিল। রাবণ মনে করিল, এই বেলা উহাকে জড়াইয়া ধরিয়া জব্দ করি:চোখ বুজিয়া আছে, দেখিতে পাইবে না। এই বলিয়া ত সে পিছন দিক হইতে গিয়া তাহাকে জড়াইয়া ধরিল;কিন্তু প্রাণপণে টানাটানি করিয়াও তাহাকে নাড়িতে পারিল না। ততক্ষণে বালী সন্ধ্যা সারিয়া, রাবণ মহাশয়কে পাখিটির মত খপ করিয়া বগলে পুরিয়া বসিয়াছে। বালী পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ এই চারি সমুদ্রের ধারে বসিয়া চারিবার সন্ধ্যা করিত। সবে তখন তাহার একবার সন্ধ্যা শেষ হইয়াছিল;সুতরাং সে রাবণকে বগলে করিয়াই আরও তিনবার সন্ধ্যা করিল। এদিকে সেই বগলের চাপে, গরমে ঘামে আর গন্ধে বেচারা চ্যাপ্টা হইয়া, সিদ্ধ হইয়া, দম আটকাইয়া, পেট ঢাক হইয়া নাকালের একশেষ।
তবে লঙ্কাকাণ্ডে যুদ্ধের যে বর্ণনা আছে, আমার বিশ্বাস তেমন অদ্ভুত বিবরণ বাংলাভাষায় তো অন্ততঃ আর একটিও নেই। যুদ্ধদৃশ্য যেন বাস্টার কীটনের কোন সিনেমার স্ল্যাপস্টিক। কিন্তু তা মূলকে অতিক্রম না করেই। আর তাই শিশুমনে এই যুদ্ধের যে ছবি আঁকা থাকে, তা রক্তাক্ত না, বরং অনাবিল এক হাস্যরসের। শিশু থেকে কিশোর পেরিয়েও যে লাইনগুলো মাথায় গাঁথা থাকে চিরকালের মত-
রাবণকে দেখিয়া সুগ্রীব একটা পর্বতের চুড়া ছুড়িয়া মারিল। রাবণ সেই পর্বত কাটিয়া সুগ্রীবকে এমনই এক বাণ মারিল যে তাহাতে সে চিৎকার করিয়া একেবারে অজ্ঞান হইয়া গেল। তাহা দেখিয়া জ্যোতিমুখ, গবাক্ষ, গবয়, সুষেণ, ঋষভ আর নল ছুটয়া যুদ্ধ করিতে আসিল। কিন্তু তাহাদের সাধ্য কি যে রাবণের বাণের সম্মুখে টিকিয়া থাকে। বাণের যন্ত্রণায় অস্থির হইয়া বানরেরা একেবারে রামের কাছে গিয়া উপস্থিত। তখন রাম নিজেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতেছিলেন, এমন সময়ে লক্ষ্মণ বলিলেন, দাদা, আমি রাবণের সহিত যুদ্ধ করিব।”
এদিকে হনুমান ছুটিয়া গিয়া রাবণকে বলিল, আজ এই এক কিলে তোর প্রাণ বাহির করিয়া দিব!’ রাবণ বলিল, ‘মার দেখি তোর কত জোর! এই বলিয়া সে আগেই হনুমানের বুকে এক চড় মারিল। হনুমানের খুব লাগিল বটে, কিন্তু সে সামলাইয়া উঠিয়া রাবণের বুকে এক চড় মারিয়া তাহাকে একেবারে অস্থির করিয়া দিল। আবার রাবণ একটু সুস্থ হইয়া হনুমানের বুকে এমন এক কিল মারিল যে হনুমান সহজে তাহার চোট সামলাইয়া উঠিতে পারিল না।
অনেক পরে সুকুমার যে লক্ষ্মণের শক্তিশেল লিখবেন, তার সূচনা যে এই রামায়ণেই কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আছে, তা বুঝতে বিশেষ বুদ্ধি খরচ করতে হয় না। উপেন্দ্রকিশোরেরই অন্য একটি কম পঠিত বই “ছোট্ট রামায়ণ”-এর মধ্যে এই চেনা সুকুমারীয় হিউমারের ছড়াছড়ি। আদিপর্বে তাড়কা রাক্ষসীর আক্রমণের বিবরণ, ‘হাঁই-মাঁই-কাঁই’ করি ধাঁই-ধাঁই ধায়,/ হুড়মুড়ি ঝোপঝাড় চুরমারি পায়।/ গরজি-গরজি বুড়ি ছোটে, যেন ঝড়,/ শ্বাস বয় ঘোরতর ঘড়র-ঘড়র। কান যেন কুলো তার, দাঁত যেন মুলো।/ জ্বল-জ্বল দুই চোখ জ্বলে যেন চুলো।/ হাঁ করেছে দশ গজ, তাহে জিভ খান/ লকলকে চকচকে, দেখে ওড়ে প্রাণ।’ কিংবা রাবণের সঙ্গে রামের শেষ যুদ্ধের দৃশ্যে “রখের উপরে পড়ে সে তখন/ খাবি খেতেছিল খালি,/ ঘরে গিয়া বেটা সাহস পাইয়া সারথিরে পাড়ে গালি। “ওরে বেটা গরু,/ কি করিলি তুই/ লোকে কি কহিবে মোরে ? রথ লয়ে বেটা/ এলি যে পলায়ে ?/ বল তো কি করি তোরে?” না বলে দিলে কে বলবে এই লেখা সুকুমারের নয়, তাঁর পিতৃদেবের?
ছেলেদের রামায়ণ ও ছোট্ট রামায়ণ বাংলা ভাষার দুই আশ্চর্য রচনা। খেয়াল করে দেখবেন এখনও যে কোন বাঙালী শিশুকে প্রথমবার রামায়ণের স্বাদ দিতে পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তীর ছবিতে রামায়ণের পরপরই যে রামায়ণের দিকে হাত বাড়ানো হয়, তা উপেন্দ্রকিশোরের রামায়ণ। রাজশেখর কৈশোরে আর তারপরেও রামায়নের নেশা থাকলে আরও নানাবিধ। কিন্তু এই তিনটি বেসিক। উপেন্দ্রকিশোরের রামায়ণ সম্পূর্ণ কিশোরপাঠ্য হয়েও মূলানুগ, এবং রামায়ণের মূল রস এতে অক্ষুণ্ণ। এত বড় মহাকাব্যকে এইভাবে ধরা সহজ কাজ না।
আর এখানেই অনুবাদক উপেন্দ্রকিশোরের মুদ্রণশিল্পী কিংবা চিত্রকর অথবা ফটোগ্রাফার উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে একই সারিতে এসে বসেন।
Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books
Artemis II Captures Rare Four-Planet Alignment During Lunar Flyby
What does the Milky Way Galaxy revolve around? Know the ultimate mystery of the universe


Comments
Post a Comment