Skip to main content

What is Point Nemo Learn about the world Oceanic Desert

Point Nemo কী? পৃথিবীর “Oceanic Desert” সম্পর্কে জানুন


ভাবতে পারেন? চারপাশে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে শুধু জল—নেই কোনো দ্বীপ, নেই কোনো জাহাজের ভিড়, এমনকি নেই কোনো জীবনের স্পষ্ট চিহ্নও।


Point Nemo


কেন এত ভয়ংকরভাবে নির্জন?

Point Nemo অবস্থিত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে। এটি পৃথিবীর “Oceanic Pole of Inaccessibility” নামে পরিচিত—অর্থাৎ পৃথিবীর এমন একটি স্থান যা স্থলভাগ থেকে সবচেয়ে দূরে। এর চারপাশে সবচেয়ে কাছের তিনটি দ্বীপও প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বিশাল দূরত্বই একে পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন স্থানগুলোর একটি করে তুলেছে।

এই স্থানটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। এটি এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে সমুদ্রের স্রোতগুলো খুবই দুর্বল এবং কোনো বড় স্থলভাগ কাছাকাছি নেই। ফলে অন্য সমুদ্র অঞ্চলের মতো এখানে পুষ্টি উপাদান সহজে পৌঁছাতে পারে না। সাধারণত যেখানে সমুদ্রতলের নিচ থেকে পুষ্টি উপাদান উপরে উঠে আসে—যাকে আপওয়েলিং বলা হয়—সেইসব অঞ্চলে প্রচুর সামুদ্রিক প্রাণ দেখা যায়। কিন্তু Point Nemo-র আশেপাশে এমন প্রক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত।

ফলে এখানকার জল অত্যন্ত পুষ্টিহীন বা nutrient-poor। এই কারণে প্ল্যাঙ্কটন, যা সমুদ্রের খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি, খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়। আর প্ল্যাঙ্কটন কম মানেই মাছ কম, আর মাছ কম মানেই বড় সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতিও কম। এই কারণে অনেক বিজ্ঞানী এই অঞ্চলকে “Oceanic Desert” বা সমুদ্রের মরুভূমি বলে থাকেন।

এখানে কোনো মানুষ বাস করে না। কোনো স্থায়ী বসতি নেই, কোনো বন্দর নেই, এমনকি কোনো নিয়মিত জাহাজ চলাচলও নেই। বাণিজ্যিক বিমানগুলোও সাধারণত এই অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়তে চায় না, কারণ জরুরি অবস্থায় অবতরণের মতো কোনো কাছাকাছি স্থান নেই। এই নির্জনতা এতটাই গভীর যে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সবচেয়ে অদ্ভুত এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এই জায়গাটিকে “Spacecraft Cemetery” বলা হয়। বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা, যেমন , তাদের পুরনো বা অকেজো স্যাটেলাইট এবং মহাকাশযানের অংশ পৃথিবীতে ফেরত আনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে ফেলেছে। কারণ এখানে মানুষের বসতি নেই, ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা ক্ষতির ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে।

শুধু NASA নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাও বহু বছর ধরে এই এলাকাকে নিরাপদ পতন অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। শত শত মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ ইতিমধ্যেই এই সমুদ্র অঞ্চলে জমা হয়েছে। যদিও এগুলোর বেশিরভাগই বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় পুড়ে যায়, তবুও কিছু অংশ সমুদ্রে এসে পড়ে।

কল্পনা করুন, আপনি যদি এই জায়গায় উপস্থিত থাকতেন—যদিও তা প্রায় অসম্ভব—তাহলে আপনার উপরে দিয়ে ভেঙে পড়া কোনো মহাকাশযানের অংশ নেমে আসতে পারত। এই ধারণাটিই Point Nemo-কে আরও রহস্যময় ও কিছুটা ভয়ংকর করে তোলে।

আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো—যদি কেউ Point Nemo-তে অবস্থান করে, তাহলে তার সবচেয়ে কাছের মানুষ পৃথিবীর পৃষ্ঠে নাও থাকতে পারে। বরং আকাশে ভেসে থাকা -এ থাকা মহাকাশচারীরাই তখন সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হতে পারে। কারণ এই স্থানটি এতটাই বিচ্ছিন্ন যে পৃথিবীর কোনো শহর, দ্বীপ বা জনবসতি এর কাছাকাছি নেই।

এই জায়গায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। কোনো নির্দিষ্ট রুট নেই, কোনো পর্যটন ব্যবস্থা নেই, এবং কোনো জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাও কার্যকর নয়। আপনি যদি এখানে কোনোভাবে পৌঁছান এবং সমস্যায় পড়েন, তাহলে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এই কারণেই সাধারণ মানুষের জন্য Point Nemo প্রায় অপ্রবেশযোগ্য একটি স্থান।

Point Nemo শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, এটি পৃথিবীর এক চরম বাস্তবতার প্রতীক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তি এবং উন্নতির এই যুগেও পৃথিবীর কিছু অঞ্চল এখনো সম্পূর্ণ অজানা এবং মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

এই নিঃসঙ্গতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক ধরনের রহস্য। এখানে নেই কোনো কোলাহল, নেই কোনো শহরের আলো, নেই কোনো মানুষের পদচারণা—শুধু অসীম সমুদ্র আর গভীর নীরবতা। এই নীরবতা যেমন ভীতিকর, তেমনি বিস্ময়করও।

শেষ পর্যন্ত একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—যেখানে কোনো মানুষ নেই, কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই, সেখানে কি সত্যিই কিছুই নেই? নাকি এই বিশাল নির্জনতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা এখনো আমাদের অজানা রয়ে গেছে?











Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...