Skip to main content

The history of liberation written in the ashes of the pyre

 

চিতার ভস্মে লেখা মুক্তির ইতিহাস ৯৪ সংখ্যার পেছনের আধ্যাত্মিক রহস্য | The history of liberation written in the ashes of the pyre The spiritual mystery behind the number 94






কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটে চিতা যখন নিভে যায়, তখন যে ব্যক্তি মুখাগ্নি দেন, তিনি চিতাভস্মের ওপর ৯৪ লেখেন।

জীবনের শতপথ (১০০টি পথ) রয়েছে। যে ব্যক্তি ১০০টি শুভ কর্ম করেন, তিনি মৃত্যুর পর তারই ভিত্তিতে তাঁর পরবর্তী জীবন শুভ বা অশুভ রূপে লাভ করেন। এই কর্মগুলির মধ্যে ৯৪টি কর্ম মানুষের অধীনে, যা সে সম্পন্ন করতে সক্ষম। কিন্তু ৬টি কর্মের ফলাফল ব্রহ্মা জির (বিধাতার) অধীন। ক্ষতি-লাভ, জীবন-মরণ, যশ-অপযশ — এই ৬টি কর্ম বিধির নিয়ন্ত্রণে থাকে। Articale


অতএব, আজ চিতার সঙ্গে তোমার ৯৪টি কর্ম ভস্ম হয়ে গেল। বাকি ৬টি কর্ম এবার তোমার জন্য নতুন জীবন সৃষ্টি করবে। তাই ১০০ - ৬ = ৯৪ লেখা হয়।


গীতায়ও বলা হয়েছে যে মৃত্যুর পর মন তার সঙ্গে ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়কে নিয়ে যায়। এই সংখ্যাটি হলো ৬ (মন এবং পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়)।


পরবর্তী জন্ম কোন দেশে, কোথায় এবং কাদের মাঝে হবে, তা প্রকৃতি ছাড়া অন্য কারও জানা নেই। অতএব, ৯৪টি কর্ম ভস্ম হলো এবং ৬টি সঙ্গে যাচ্ছে।


বিদায় যাত্রী। তোমার ৬টি কর্ম তোমার সঙ্গে রইল।


এই ১০০টি শুভ কর্মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো, যা জীবনকে ধর্ম এবং সৎকর্মের দিকে চালিত করে এবং এই তালিকা সৎকর্ম করার অনুপ্রেরণা দেবে...


১০০টি শুভ কর্মের গণনা : ধর্ম এবং নৈতিকতার কর্ম

১. সত্য বলা

২. অহিংসার পালন

৩. চুরি না করা

৪. লোভ থেকে বাঁচা

৫. ক্রোধের ওপর নিয়ন্ত্রণ

৬. ক্ষমা করা

৭. দয়া ভাব রাখা

৮. অন্যের সাহায্য করা

৯. দান করা (অন্ন, বস্ত্র, ধন)

১০. গুরুর সেবা

১১. মাতা-পিতার সম্মান

১২. অতিথির সৎকার

১৩. ধর্মগ্রন্থের অধ্যয়ন

১৪. বেদ ও শাস্ত্র পাঠ

১৫. তীর্থযাত্রা করা

১৬. যজ্ঞ ও হোম করা

১৭. মন্দিরে পূজা-অর্চনা

১৮. পবিত্র নদীতে স্নান

১৯. সংযম ও ব্রহ্মচর্যের পালন

২০. নিয়মিত ধ্যান ও যোগ

সামাজিক ও পারিবারিক কর্ম

২১. পরিবারের ভরণ-পোষণ

২২. সন্তানদের ভালো শিক্ষা দেওয়া

২৩. দরিদ্রদের খাবার দেওয়া

২৪. রোগীদের সেবা

২৫. অনাথদের সাহায্য

২৬. বৃদ্ধদের সম্মান

২৭. সমাজে শান্তি স্থাপন

২৮. মিথ্যা তর্ক-বিতর্ক থেকে বাঁচা

২৯. অন্যের নিন্দা না করা

৩০. সত্য ও ন্যায়ের সমর্থন

৩১. পরোপকার করা

৩২. সামাজিক কাজে অংশ নেওয়া

৩৩. পরিবেশের রক্ষা

৩৪. বৃক্ষরোপণ করা

৩৫. জল সংরক্ষণ

৩৬. পশু-পাখির রক্ষা

৩৭. সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি করা

৩৮. অন্যদের অনুপ্রাণিত করা

৩৯. সমাজের দুর্বল অংশের উন্নয়ন

৪০. ধর্মের প্রচারে সহযোগিতা

আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগত কর্ম

৪১. নিয়মিত জপ করা

৪২. ঈশ্বরের স্মরণ

৪৩. প্রাণায়াম করা

৪৪. আত্মচিন্তন

৪৫. মনের শুদ্ধি

৪৬. ইন্দ্রিয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ

৪৭. লালসা থেকে মুক্তি

৪৮. মোহ-মায়া থেকে দূরত্ব

৪৯. সাধারণ জীবন যাপন করা

৫০. স্বাধ্যায় (আত্ম-অধ্যয়ন)

৫১. সাধু-সন্তদের সঙ্গ

৫২. সৎসঙ্গে অংশ নেওয়া

৫৩. ভক্তিতে মগ্ন হওয়া

৫৪. কর্মফল ঈশ্বরকে সমর্পণ করা

৫৫. তৃষ্ণা ত্যাগ

৫৬. ঈর্ষা থেকে বাঁচা

৫৭. শান্তির বিস্তার

৫৮. আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা

৫৯. অন্যের প্রতি উদারতা

৬০. ইতিবাচক চিন্তা রাখা

সেবা ও দানের কর্ম

৬১. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান

৬২. বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান

৬৩. গৃহহীনকে আশ্রয় দান

৬৪. শিক্ষার জন্য দান

৬৫. চিকিৎসার জন্য সাহায্য

৬৬. ধর্মীয় স্থান নির্মাণ

৬৭. গো-সেবা

৬৮. পশুকে খাদ্য দেওয়া

৬৯. জলাশয়ের পরিষ্করণ

৭০. রাস্তা নির্মাণ

৭১. পান্থশালা নির্মাণ

৭২. স্কুলকে সাহায্য

৭৩. পাঠাগার স্থাপন

৭৪. ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা

৭৫. দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ভোজন

৭৬. বস্ত্র দান

৭৭. ঔষধ দান

৭৮. বিদ্যা দান

৭৯. কন্যা দান

৮০. ভূমি দান

নৈতিক ও মানবিক কর্ম

৮১. বিশ্বাসঘাতকতা না করা

৮২. প্রতিজ্ঞা পালন

৮৩. কর্তব্যনিষ্ঠা

৮৪. সময়ানুবর্তিতা

৮৫. ধৈর্য রাখা

৮৬. অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান

৮৭. সত্যের জন্য সংগ্রাম

৮৮. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া

৮৯. দুঃখীদের অশ্রু মোছা

৯০. শিশুদের নৈতিক শিক্ষা

৯১. প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা

৯২. অন্যদের উৎসাহ প্রদান

৯৩. মন, বাক্য, কর্মে শুদ্ধতা

৯৪. জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা


বিধির অধীন ৬ কর্ম

৯৫. ক্ষতি বা হানি 

৯৬. লাভ 

৯৭. জীবন 

৯৮. মরণ 

৯৯. যশ 

১০০. অপযশ 


কথিত আছে, দেবী সতীর দেহত্যাগের পর মণিকর্ণিকা ঘাট দিয়েই ভগবান শিব বিশ্বনাথ মন্দিরে এসেছিলেন। ভগবান শিব নিজেই কাশী শহরকে তাঁর আবাসস্থল হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে — “এখানে আগত প্রতিটি ভক্তই মোক্ষ লাভ করবেন।” More


পুরাণে উল্লিখিত আছে — “কাশ্যম মারাণন মুক্তি:” অর্থাৎ যে ব্যক্তি কাশীতে মৃত্যুবরণ করে, ভগবান শিব নিজেই তাকে মুক্তি দেন।


এখানে তিনি বিশ্বেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে অবস্থান করেন এবং এখানে দেবী অন্নপূর্ণা হিসেবে বিরাজ করেন মা পার্বতী। কাশীকে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর সবচেয়ে প্রিয় স্থান বলে মনে করা হয়।


একবার মা পার্বতী শিবকে বললেন — প্রভু ! যদি কোনও ভক্ত কেবল আপনার নাম নেয়, তবুও কি সে মুক্তি পাবে ?


শিব হেসে বললেন — দেবী ! কাশীতে, 'রাম-রাম' বললেও আত্মা পবিত্র হয়ে ওঠে। এখানে মৃত্যুও একটি উৎসব, কারণ আমি নিজেই আমার ভক্তের কানে 'রাম নাম সত্য হ্যায়' প্রচার করে তাকে মুক্ত করি।


এই কারণেই কাশীকে মহামুক্তিক্ষেত্র বলা হয়। যেখানে মৃত্যুও একটি উৎসব, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসই মুক্তির দ্বার। এই স্থান মানবের কর্মবন্ধন কর্ষণ বা নাশ করে — তাই এই স্থানের নাম কাশী।


রাম নাম সত্য হ্যায় 





Related article :



Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books




How many shipped are lost in the world every eyears







Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...