Skip to main content

Incredible History The King of Ancient Egypt Who Married His Own Daughter

 

অবিশ্বাস্য ইতিহাস প্রাচীন মিশরের সেই রাজা যিনি নিজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন || Incredible History The King of Ancient Egypt Who Married His Own Daughter




ইতিহাসের কোন রাজা নিজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন ক্ষমতা, বিশ্বাস ও অন্ধ সংস্কারের ভয়ংকর অধ্যায়

ইতিহাস শুধু গৌরব, যুদ্ধজয় বা সভ্যতার অগ্রগতির গল্প নয়। ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু অধ্যায়ও আছে, যা আধুনিক মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য, ভয়ংকর এবং নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে হয়। নিজের মেয়েকে বিয়ে করার মতো ঘটনা তেমনই এক চরম উদাহরণ। আজকের সমাজে এটি কল্পনাতীত অপরাধ হলেও, প্রাচীন কিছু সভ্যতায় এটি ছিল ক্ষমতা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজবংশ রক্ষার নামে বৈধ ও স্বীকৃত এক প্রথা।

প্রাচীন সমাজে রাজকীয় বিবাহের ধারণা

প্রাচীন যুগে রাজারা নিজেদের সাধারণ মানুষ হিসেবে ভাবতেন না। অনেক সভ্যতায় রাজা ছিলেন ঈশ্বরের প্রতিনিধি বা সরাসরি দেবতার অবতার। ফলে তাঁদের রক্তকে পবিত্র ও ঐশ্বরিক বলে মনে করা হতো। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নেয় রাজরক্ত “শুদ্ধ” রাখার ধারণা। বাইরের কাউকে বিয়ে করলে সেই পবিত্রতা নষ্ট হবে—এমন ভয় থেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ প্রচলিত হয়।

প্রাচীন মিশর: আত্মীয় বিবাহের কেন্দ্রবিন্দু

নিজের মেয়েকে বিয়ে করার ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্রাচীন মিশরে। মিশরীয় ফারাওরা বিশ্বাস করতেন, তারা দেবতা হোরাস বা সূর্যদেব রা-এর প্রতিনিধি। তাই তাঁদের পরিবার ছিল দেবপরিবারের মতোই পবিত্র। রাজপরিবারের বাইরে বিয়ে করা মানে দেবরক্তকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া—যা ছিল অমার্জনীয় অপরাধ।

এই কারণে ভাই-বোনের বিয়ে তো ছিলই, কিছু ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে মেয়ের বিবাহও ঘটেছে। যদিও সব মেয়ের সঙ্গে এমন সম্পর্ক ছিল না, তবে যাদের “গ্রেট রয়্যাল ওয়াইফ” বা প্রধান রানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন পড়ত, তাদের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটত।

রামেসিস দ্বিতীয়: ইতিহাসের আলোচিত উদাহরণ

প্রাচীন মিশরের অন্যতম শক্তিশালী ও দীর্ঘকাল শাসনকারী ফারাও ছিলেন রামেসিস দ্বিতীয়। তিনি প্রায় ৬৬ বছর রাজত্ব করেছিলেন এবং তাঁর অসংখ্য স্ত্রী ও সন্তান ছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি তাঁর অন্তত দুই বা তিনজন মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

এই বিবাহগুলো মূলত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ছিল। মেয়েদের রানি হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে রাজক্ষমতা আরও মজবুত হতো এবং রাজবংশের উত্তরাধিকার প্রশ্নে বাইরের কারও প্রভাব থাকত না। এই বিয়েগুলো আধুনিক অর্থে পারিবারিক সম্পর্কের মতো না হলেও, তাতে যৌন সম্পর্কের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কেন মেয়েকে বিয়ে করা হতো

এই ধরনের বিবাহের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করত—

রাজবংশের শুদ্ধতা রক্ষা
রাজরক্ত যেন বাইরের মানুষের সঙ্গে না মেশে, সেটাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

ক্ষমতা ধরে রাখা
রাজপরিবারের ভেতরে বিয়ে হলে সিংহাসন নিয়ে বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা কমে যেত।

ধর্মীয় বৈধতা
ফারাও নিজেকে দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন। নিজের মেয়েকে বিয়ে করা ছিল সেই দেবত্বের প্রতীক।

রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ
বাইরের রাজপরিবারের সঙ্গে বিয়ে করলে নতুন শক্তির উত্থান ঘটতে পারত, যা শাসকের জন্য বিপজ্জনক ছিল।

শুধু মিশর নয়: অন্যান্য সভ্যতায় আত্মীয় বিবাহ

যদিও নিজের মেয়েকে বিয়ে করার ঘটনা সবচেয়ে বেশি মিশরেই দেখা যায়, তবে আত্মীয় বিবাহ অন্য সভ্যতাতেও ছিল। ইনকা সাম্রাজ্যে ভাই-বোনের বিয়ে ছিল খুবই সাধারণ। পারস্য ও কিছু প্রাচীন রাজবংশেও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ দেখা যায়। তবে বাবার সঙ্গে মেয়ের বিবাহ তুলনামূলকভাবে বিরল এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতীকী ছিল।

এর পরিণতি ও মানবদেহে প্রভাব

আজ বিজ্ঞান আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ থেকে জন্ম নেয় জিনগত রোগ, শারীরিক বিকলাঙ্গতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি। প্রাচীন মিশরের রাজপরিবারগুলোর মধ্যেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেক ফারাও শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন, কেউ কেউ অস্বাভাবিক রোগে ভুগতেন। তুতানখামুনের দেহ বিশ্লেষণেও আত্মীয় বিবাহের নেতিবাচক প্রভাব ধরা পড়ে।

আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই ঘটনা

আজকের সমাজে বাবা-মেয়ে সম্পর্ক পবিত্র, নিরাপদ ও আইনের দ্বারা সুরক্ষিত। নিজের মেয়েকে বিয়ে করা শুধু সামাজিকভাবে নয়, আইনগতভাবেও চরম অপরাধ। ইতিহাসের এই ঘটনাগুলো আমাদের সমর্থনের জন্য নয়, বরং শিক্ষা নেওয়ার জন্য।

ইতিহাস আমাদের কী শেখায়

এই গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা, ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস আর নিজেকে ঈশ্বর ভাবার প্রবণতা মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইতিহাস দেখায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সময়ের সাথে বিকশিত হয়।

উপসংহার

ইতিহাসের কিছু রাজা সত্যিই নিজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা অনুকরণীয় নয়। বরং এটি মানবসভ্যতার অন্ধকার অধ্যায়। ইতিহাসকে জানার উদ্দেশ্য সমর্থন নয়, সচেতন হওয়া। অতীতের ভুলগুলো বুঝে ভবিষ্যতে যেন মানুষ আরও মানবিক, ন্যায়বান ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পারে—এই হোক ইতিহাস জানার আসল মূল্য।



নারীর স্বভাবের ১০টি ‘নিষিদ্ধ’ সত্য সমাজ যেগুলো শেখায়নিমা নবমনোবিজ্ঞানের আলোকে | 10 'Forbidden' Truths About Women's Nature What Society Hasn't Taught


হতাশা থেকে বিশালতার যাত্রা ইউটিউবের ২০ বছরের অবিশ্বাস্য ইতিহাস | YouTube's incredible 20-year journey from disappointment to greatness



পৃথিবীতে নববর্ষ কেন একসঙ্গে শুরু হয় না সময় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক তারিখরেখার গল্প Happy new year 2026 countdown Why New Years don't start at the same time around the world




Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

  একটি মেয়ের বিবাহিত জীবনে প্রচুর অশান্তি হচ্ছিল সে কোনো ভাবেই |  A girl was having a lot of trouble in her married life English convert scroll 👇 Married life পরিবর্তনের শুরু নিজেকে বদলে দেওয়া থেকেই : তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না,মনের মধ্যে এতোটাই রাগ জন্মেছিল যে সে তার স্বামীকে খুন পর্যন্ত করতে চাইছে।  একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,আমি আর তার বাজে কথা মেনে নিতে পারছি না। আমি তাকে খুন করতে চাই,কিন্তু আমি ভয়‌ পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি এই বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারো মা..??” bangla golpo মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা..?? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে খুব ভালোভাবে শান্তিতে কিছুদিন থাকতে হবে,যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া দেখাব...

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

‘ আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল’ এক ভুল আবিষ্কারের মরণফাঁদ  |  The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery শিশুর জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই ভালোবাসাকেই সহজ করার নামে ইতিহাসে অনেক সময় কিছু আবিষ্কার এসেছে, যেগুলোর শেষ পরিণতি দাঁড়িয়েছে ভয়ংকর বিপদের নামান্তর হয়ে। এমনই এক উদাহরণ হলো ফিডিং বোতল, বিশেষ করে উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত তথাকথিত “আলেকজান্দ্রিয়া ফিডিং বোতল”, যাকে আরেক নামে ডাকা হতো “খুনি বোতল” বলে। কেন এমন নাম? সেই গল্প বুঝতে গেলে যেতে হবে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের ইংল্যান্ডে। সে সময় সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছিল। শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার নারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাতৃত্বের পাশাপাশি গৃহকর্ম বা পেশাগত দায়িত্ব সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো উপায়ের, যাতে শিশু নিজেরাই দুধ পান করতে পারে এবং মা কিছুটা সময় নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নানা রকম ফিডিং বোতল, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে বোতলগুলোকে বলা হতো “বাঞ্জো বোতল”। অদ্ভুত বঙ্কিম আকৃতির কারণে এই নাম। বোতলের একপাশ ফুলানো,...

Mandra was sitting bangla golpo

Mandra was sitting quietly in a corner of the hospital's black chair. She suddenly fainted ||হাসপাতালের কালো চেয়ারের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল মন্দ্রা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় বেশি কিছু ভাবনা চিন্তা না করেই সে বাবাকে সামনের হাসপাতালে নিয়ে এসেছে| খানিক আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারল বাবার মাথায় ক্লট জমেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে| এদিকে দিন আনি দিন খাই পরিবার, তার টিউশনের দু হাজার টাকাও পরিবারের কাছে অনেক| ষাট হাজার টাকা... অঙ্কটা তাদের মতো পরিবারের জন্য অনেক| দিন দুয়েকের মধ্যে তো দূর, বছরখানেকের মধ্যেও জোগাড় করতে পারবে কিনা সন্দেহ! রিসেপশন ডেস্কে বসা গোলাপি ইউনিফর্ম পরা মহিলার কাছ থেকে টাকার অঙ্কটা শোনার পরপরই মন্দ্রার মনে হল মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া বোধহয় একেই বলে| এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার, তবে কি বাবা আর প্রাণে বাঁচবে না? মা কেমন ছিল ভাল করে মনেও নেই তার, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না পেরে তাকে ফেলে পালিয়েছে| বাবাই খেয়ে না খেয়ে পক্ষী মাতার মতো বুকে আগলে রেখেছিল এতদিন| কিন্তু বাবাই যদি তারাদের দেশে চলে যায়, একলা কিভাবে বাঁচবে মন্দ্রা? কথাটা ...