বৈশিষ্ট্য

Per month Even at the age of 90 Fayyaz Ali Khan rushed to collect his royal pension


মাসে মাত্র ৯ টাকা ৭০ পয়সা! ৯০ বছর বয়সেও রাজকীয় পেনশন নিতে ছুটে আসেন ফাইয়াজ আলী খান

Only 9 taka 70 paisa per month! Even at the age of 90, Fayyaz Ali Khan rushed to collect his royal pension





বয়স তাঁর ৯০ বছর। শরীরের ভারে হাত কাঁপে, হাঁটার গতিও আগের মতো নেই। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। তবুও নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় হাজির হন ফাইয়াজ আলী খান। কারণ, সেখানে গেলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ঐতিহাসিক অর্থপ্রাপ্তি—যার পরিমাণ শুনলে আজকের দিনে অবাক হতে হয়।

মাসে মাত্র ৯ টাকা ৭০ পয়সা

এই সামান্য অর্থের জন্য কেন ৯০ বছর বয়সেও তিনি নিয়ম করে আসেন? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। হুসেনাবাদের ফাইয়াজ আলী খান ‘ওয়াসিকা’ নামে পরিচিত একটি ঐতিহাসিক পেনশনের প্রাপক। আওয়াধের নবাব পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তিনি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের একজন, যারা উত্তরাধিকারসূত্রে এই অর্থ পেয়ে থাকেন।

কী এই ‘ওয়াসিকা’?

‘ওয়াসিকা’ শব্দটির উৎস ফারসি। এটি মূলত একটি ঐতিহাসিক আর্থিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আওয়াধের নবাব পরিবারের বংশধর এবং তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

আজ ভারতে রাজতন্ত্র নেই। নবাবদের শাসনব্যবস্থাও বহু আগেই ইতিহাস হয়ে গেছে। কিন্তু সেই সময়ের সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিক ঐতিহ্য এখনও কোনোভাবে টিকে আছে। আর সেই ঐতিহ্যেরই একটি অংশ হল এই ওয়াসিকা।

বর্তমানে এই পেনশনের পরিমাণ মাসে মাত্র ৯ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থের অঙ্কটি এতটাই কম যে বর্তমান সময়ে তা দিয়ে সামান্য কিছু কেনাকাটাও কঠিন। কিন্তু ফাইয়াজ আলী খানের মতো প্রাপকদের কাছে বিষয়টি শুধু অর্থ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

টাকার চেয়ে বড় ইতিহাস

ফাইয়াজ আলী খানের কাছে এই অর্থের প্রকৃত মূল্য সম্ভবত এর আর্থিক পরিমাণে নয়। বরং এটি তাঁর পরিবারের অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিচয়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থের পরিমাণ যতই কম হোক, তাঁরা এই পেনশন গ্রহণ করবেন। কারণ এর সঙ্গে তাঁদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস এবং বহু বছরের পারিবারিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে।

একজন মানুষের জীবনে ৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়তো খুব বড় কোনো অর্থ নয়। কিন্তু যখন সেই অর্থের সঙ্গে কয়েক প্রজন্মের ইতিহাস যুক্ত থাকে, তখন তার মূল্য অন্যভাবে দেখা যায়।

কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এই ব্যবস্থা?

ওয়াসিকা ব্যবস্থার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এর সূত্রপাত উনিশ শতকের গোড়ার দিকে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়াধের নবাব পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পুরোনো আর্থিক চুক্তি এবং ঋণের ওপর পাওয়া সুদের ভিত্তিতে এই অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

সেই সময়ে এই অর্থের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। উত্তরাধিকারীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে একসময় এই অর্থ অনেক বেশি মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে যেতে থাকে। ফলে প্রত্যেক প্রাপকের হাতে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ ক্রমশ কমে আসে।

আজ সেই ঐতিহাসিক ব্যবস্থার অর্থমূল্য অত্যন্ত সামান্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুপার মুদ্রার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক

ওয়াসিকা প্রদানের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে রুপার মুদ্রার সম্পর্কও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময়ের আর্থিক ব্যবস্থা এবং মুদ্রার মূল্য বর্তমান সময়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

পরবর্তীকালে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থা চালু হওয়া এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই পেনশনের বাস্তব আর্থিক মূল্যও অনেকটাই কমে যায়।

তবে অর্থের মূল্য কমলেও ঐতিহ্যের মূল্য কমেনি। ফাইয়াজ আলী খানের মতো প্রাপকদের কাছে এই অর্থ এখনও তাঁদের অতীতের একটি জীবন্ত স্মারক।

নবাবি আমলের স্মৃতি এখনও জীবন্ত

৯০ বছরের ফাইয়াজ আলী খানের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত হয়ে আছে পুরোনো দিনের অনেক দৃশ্য। তাঁর মনে পড়ে সেই সময়ের ঘোড়ার গাড়ি, মানুষের চলাফেরা, পর্দাঘেরা পালকিতে নারীদের যাতায়াত এবং নবাবি আমলের বিভিন্ন রীতি।

সময়ের সঙ্গে সেই পৃথিবী হারিয়ে গেছে। ঘোড়ার গাড়ির জায়গা নিয়েছে আধুনিক যানবাহন। পালকির পরিবর্তে এসেছে আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা। বদলে গেছে মানুষের জীবনযাপন, সামাজিক কাঠামো এবং শাসনব্যবস্থা।

কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে ইতিহাস অনেক সময় এমনভাবেই বেঁচে থাকে।

৯ টাকা ৭০ পয়সার অন্যরকম মূল্য

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মাসে ৯ টাকা ৭০ পয়সা শুনলে অনেকের কাছেই বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু ফাইয়াজ আলী খানের কাছে এই অর্থ শুধুমাত্র একটি পেনশন নয়।

এটি তাঁর পরিবারের অতীতের সঙ্গে একটি সংযোগ। এটি পূর্বপুরুষদের স্মৃতি। এটি একটি ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রতীক।

রাজতন্ত্র চলে গেছে, নবাবি আমলও ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের কিছু অংশ কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। কখনও তা কোনো পুরোনো দলিলে, কোনো পরিবারের স্মৃতিতে কিংবা মাসে মাত্র কয়েক টাকার একটি অর্থপ্রাপ্তির মধ্যেও বেঁচে থাকে।

ফাইয়াজ আলী খানের কাছে সেই ৯ টাকা ৭০ পয়সা তাই সামান্য অর্থ হলেও এর তাৎপর্য অনেক বড়। এটি যেন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি ছোট্ট সেতু—যেখানে অর্থের মূল্য কমে গেলেও ইতিহাসের মূল্য এখনও অটুট।



Visit our homepage → Ebook Bangla Free Books



Hubble Space Telescope 36 Years of Discoveries Images and Space Exploration Revolution





YouTube's incredible 20-year journey from disappointment to greatness






মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ