Happy new year 2026 countdown Why New Years don't start at the same time

Image
পৃথিবীতে নববর্ষ কেন একসঙ্গে শুরু হয় না সময় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক তারিখরেখার গল্প Happy new year 2026 countdown   Why New Years don't start at the same time around the world The story of time zones and the International Date Line Happy new year image নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর পুরোনো হিসাব–নিকাশ ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রতীকী মুহূর্ত। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে পৃথিবীর সব মানুষ একসঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করে না। একই দিনে হলেও বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন অঞ্চলে নববর্ষ শুরু হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। এর মূল কারণ পৃথিবীর সময় অঞ্চল ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক তারিখরেখা (International Date Line)। এই প্রবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় বুঝে নেব, কেন পৃথিবীতে নববর্ষ ধাপে ধাপে শুরু হয়, কোথায় প্রথম নববর্ষ আসে, আর কোথায় সর্বশেষ নববর্ষ উদযাপিত হয়। পৃথিবীর সময় অঞ্চল কীভাবে তৈরি হয়েছে পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। এই ঘূর্ণনের ফলেই দিন ও রাত হয়। যদি পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময় ধরা হতো, তাহলে কোথাও হয়তো দুপুরে সূর্য উঠত, আবার কোথাও গভীর রাতে মানুষ কাজ করত। এই সমস্যা সমাধান...

Even after being martyred baba Harbhajan Singh still serves on duty at the Indian border

 

শহীদ হওয়ার পরও বাবা হরভজন সিং এখনো ভারতের সীমান্তে ডিউটি দেন || Even after being martyred, father Harbhajan Singh still serves on duty at the Indian border


Harbhajan Singh




ভারতের সীমান্ত রক্ষাকারী সৈনিকদের মধ্যে একজনের নাম আজও কিংবদন্তির মতো উচ্চারিত হয়— বাবা হরভজন সিং। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সাহসী জওয়ান, যিনি মৃত্যুর পরও তাঁর কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি। ভারতের সিকিম সীমান্তে আজও বিশ্বাস করা হয়, তিনি এখনো প্রহরারত আছেন। এই গল্প শুধু এক সৈনিকের নয়, এটি এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও দেশপ্রেমের প্রতীক, যা কোটি ভারতীয়ের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

বাবা হরভজন সিং-এর জন্ম ৩০ আগস্ট ১৯৪৬ সালে পাঞ্জাবের কাপুরথালা জেলার একটি ছোট গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, সৎ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। ভারতের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টায় সীমান্তে নানা সংঘাত চলছিল, আর সেই সময় দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

১৯৬৬ সালে তিনি পাঞ্জাব রেজিমেন্ট-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কর্মরত হন। কঠোর শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সহযোদ্ধাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য তিনি সকলের প্রিয় হয়ে ওঠেন।

সেই রহস্যময় দিন

১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে হরভজন সিং সিকিমের নাথুলা পাস অঞ্চলে সীমান্ত প্রহরায় ছিলেন। এটি ভারত ও চীনের সীমান্ত, যেখানে আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। ৪,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় বরফে ঢাকা এই এলাকা ছিল তাঁর দায়িত্বের জায়গা। একদিন টহলদারির সময় তিনি পা পিছলে বরফের গভীরে পড়ে যান। সহযোদ্ধারা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর দেহ খুঁজে পাননি।

তিন দিন পর তাঁর মৃতদেহ বরফের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সবাই ভেবেছিল, এখানেই শেষ তাঁর গল্প। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় এক অলৌকিক অধ্যায়


Baba Harbhajan Singh



মৃত্যুর পরও কর্তব্যে অবিচল

সৈন্যদের ভাষ্যমতে, হরভজন সিং মৃত্যুর পর স্বপ্নে তাঁর সহযোদ্ধাদের কাছে এসে বলেন, “আমার দেহ এই জায়গায় আছে, আমাকে উদ্ধার করো এবং আমার জিনিসপত্র যথাযথভাবে সেনা সদর দফতরে পাঠাও।” আশ্চর্যের বিষয়, পরদিন ঠিক সেই জায়গা থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে সৈন্যদের বিশ্বাস জন্মে— হরভজন সিং এখনো তাঁদের সঙ্গে আছেন।

সেই সময় থেকেই তাঁকে সবাই “বাবা হরভজন সিং” নামে সম্মান জানাতে শুরু করে। সেনারা বিশ্বাস করেন, তাঁর আত্মা এখনো সীমান্তে টহল দেন এবং বিপদের সময় তাঁদের আগাম সতর্ক করেন। বহু সৈন্য জানিয়েছেন, তাঁরা স্বপ্নে বাবাকে দেখেছেন— কখনও বিপদের খবর দিচ্ছেন, কখনও পরামর্শ দিচ্ছেন।


Baba Harbhajan Singh


সেনাবাহিনীর মধ্যে এক অনন্য প্রথা

ভারতীয় সেনাবাহিনীও এই বিশ্বাসকে সম্মান জানায়। সিকিমের নাথুলা অঞ্চলে বাবা হরভজন সিং-এর একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে, যা “বাবা মন্দির” নামে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন প্রহরীরা তাঁর নামে সালাম দেন, খাবার ও পানি রাখেন, এবং তাঁর “দায়িত্ব পোস্ট” প্রতীকীভাবে পালন করা হয়।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো— প্রতিদিন সকালে তাঁর জন্য ইউনিফর্ম ইস্ত্রি করা হয়, জুতো পরিষ্কার করে রাখা হয়, এবং খাবার পরিবেশন করা হয়। সৈন্যরা বলেন, জুতোগুলো মাঝে মাঝে কাদা মাখা অবস্থায় পাওয়া যায়— যেন রাতে তিনি সত্যিই বাইরে টহল দিয়েছেন!


Baba harbajan sing


বার্ষিক ছুটি ও বিশেষ প্রথা

আরেকটি বিশেষ প্রথা হলো, প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বাবা হরভজন সিং-এর “ছুটি” দেওয়া হয়। তাঁর নামে ট্রেনে করে একটি আসন সংরক্ষিত থাকে— যেন তিনি বাড়ি যাচ্ছেন। ট্রেনে তাঁর ইউনিফর্ম, জুতো, ব্যাগ এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। সৈন্যরা মনে করেন, এটি তাঁর আত্মার বিশ্রামের সময়।

তাঁর নিজ গ্রামে পৌঁছে মানুষ পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁর আত্মাকে স্বাগত জানায়। এরপর নির্ধারিত সময় শেষে আবার সেই ট্রেনেই তাঁর জিনিসপত্র ফিরিয়ে আনা হয়। এমন দৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের সেনাবাহিনীতে দেখা যায় না।

বিশ্বাস ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ

অনেকে এই ঘটনাকে কেবল কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু ভারতীয় সেনাদের জন্য এটি শুধু বিশ্বাস নয়, বরং এক ধরণের মানসিক শক্তি। সীমান্তে তীব্র ঠান্ডা, জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে এই বিশ্বাস তাঁদের মনে সাহস জোগায়।

সেনাদের মধ্যে এমন ধারণা আছে— যদি কেউ সীমান্তে দায়িত্বে অবহেলা করে, বাবা হরভজন সিং তাঁর স্বপ্নে এসে সতর্ক করেন। আবার বিপদের সময় আগাম সংকেত দেন। অনেক উচ্চপদস্থ অফিসারও বলেছেন, তাঁর “অদৃশ্য উপস্থিতি” তাঁরা অনুভব করেছেন।

পর্যটকদের আকর্ষণস্থল

আজকের দিনে বাবা মন্দির শুধু সেনাদের বিশ্বাসের প্রতীক নয়, এটি সিকিমের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। হাজারো মানুষ সেখানে যান, সেনা প্রহরীদের মতোই প্রার্থনা করেন, আশীর্বাদ চান। কেউ কেউ বলেন, এখানে প্রার্থনা করলে ইচ্ছা পূরণ হয়।

নাথুলা পাসের কাছের এই মন্দিরে প্রতিদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পূজা, ও স্যালুট অনুষ্ঠান হয়। পর্যটকরা যখন এটি দেখেন, তাঁদের চোখে জল এসে যায়— একজন শহীদ সৈনিক মৃত্যুর পরও কীভাবে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন!


Harbhajan Singh


এক অনন্ত প্রেরণার প্রতীক

বাবা হরভজন সিং শুধু একজন শহীদ নন— তিনি ভারতীয় সেনার আত্মা, দেশের প্রতি অটুট নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের প্রতীক। তাঁর গল্প আমাদের শেখায়, সত্যিকারের দেশপ্রেম মৃত্যুতে থেমে যায় না।

আজও ভারত-চীন সীমান্তে যখন তুষার ঝরছে, বাতাস হু হু করে বইছে, তখনও বিশ্বাস করা হয়— কোথাও না কোথাও, বরফের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বাবা হরভজন সিং, দেশের সুরক্ষায় নিরলস প্রহরায়।

শেষকথা:
হরভজন সিং-এর জীবন ও মৃত্যুর গল্প কেবল এক সৈনিকের কাহিনি নয়, এটি ভারতের সীমান্তে কর্তব্য, বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক শক্তির মিশ্রণ। তিনি দেখিয়েছেন, দেশপ্রেম কেবল বেঁচে থাকলে নয়, মৃত্যুর পরেও দেশের মাটির সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকে। তাই তাঁকে আজও সবাই শ্রদ্ধাভরে “বাবা” বলে ডাকে— শহীদ, যিনি মৃত্যুর পরও ডিউটি দেন ভারতের সীমান্তে।



More article :


হেমেন্দ্র মোহন বসু এক বিস্মৃত নবজাগরণের নায়ক | Hemendra Mohan Bose is a forgotten hero of the Renaissance



Netaji subhash Chandra bose azad hind fauz



Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

Mandra was sitting bangla golpo