Happy new year 2026 countdown Why New Years don't start at the same time

Image
পৃথিবীতে নববর্ষ কেন একসঙ্গে শুরু হয় না সময় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক তারিখরেখার গল্প Happy new year 2026 countdown   Why New Years don't start at the same time around the world The story of time zones and the International Date Line Happy new year image নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর পুরোনো হিসাব–নিকাশ ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রতীকী মুহূর্ত। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে পৃথিবীর সব মানুষ একসঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করে না। একই দিনে হলেও বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন অঞ্চলে নববর্ষ শুরু হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। এর মূল কারণ পৃথিবীর সময় অঞ্চল ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক তারিখরেখা (International Date Line)। এই প্রবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় বুঝে নেব, কেন পৃথিবীতে নববর্ষ ধাপে ধাপে শুরু হয়, কোথায় প্রথম নববর্ষ আসে, আর কোথায় সর্বশেষ নববর্ষ উদযাপিত হয়। পৃথিবীর সময় অঞ্চল কীভাবে তৈরি হয়েছে পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। এই ঘূর্ণনের ফলেই দিন ও রাত হয়। যদি পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময় ধরা হতো, তাহলে কোথাও হয়তো দুপুরে সূর্য উঠত, আবার কোথাও গভীর রাতে মানুষ কাজ করত। এই সমস্যা সমাধান...

Stan Larkins incredible life of days without a human heart

 

স্ট্যান লারকিন মানব হৃদপিণ্ড ছাড়াই ৫৫৫ দিনের অবিশ্বাস্য জীবন | Stan Larkin's incredible life of 555 days without a human heart



মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কোনটি—এ প্রশ্ন করলে নিশ্চয়ই সবার প্রথমেই মনে আসে হৃদপিণ্ডের কথা। কারণ হৃদপিণ্ডই আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয়। একটি সেকেন্ডও এটি থেমে গেলে আমরা বেঁচে থাকতে পারি না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি দীর্ঘ ৫৫৫ দিন নিজের শরীরে এক ফোঁটা মানব হৃদপিণ্ড ছাড়াই বেঁচে ছিলেন! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্য। সেই মানুষটির নাম স্ট্যান লারকিন, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের বাসিন্দা।

স্ট্যান লারকিনের গল্প চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অনন্য কীর্তি, আবার মানব ইচ্ছাশক্তির সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তার জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামে ভরা। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। বাঁচার তীব্র আকাঙক্ষা এবং আধুনিক চিকিৎসার অসামান্য অগ্রগতির সমন্বয়েই সম্ভব হয়েছে এই বিস্ময়কর ঘটনা।


মারণ হৃদরোগ: ফ্যামিলিয়াল কার্ডিওমায়োপ্যাথি

স্ট্যান লারকিন ছোটবেলায় থেকেই খেলাধুলা করতে ভালোবাসতেন। বিশেষ করে বাস্কেটবল ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, হঠাৎই জীবনে নেমে আসে বড় ঝড়।

তিনি এক বিরল ধরনের জেনেটিক হৃদরোগে আক্রান্ত বলে জানা যায়—
ফ্যামিলিয়াল কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Familial Cardiomyopathy)।

এই রোগের কারণে হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি এই রোগ যেকোনো সময় হঠাৎ করে হৃদযন্ত্র থেমে যেতে পারে। শুধু স্ট্যানই নন, তার ভাই লিভিংস্টন লারকিনও একই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ডাক্তাররা বুঝতে পারেন, কৃত্রিম সহায়তা ছাড়া তাদের কেউই বেশিদিন বাঁচবেন না।


বাঁচার পথ: মানব হৃদপিণ্ড অপসারণ

হৃদরোগ এতটাই মারাত্মক হয়ে ওঠে যে চিকিৎসকরা শেষ সিদ্ধান্ত নেন—
হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে!

একজন মানুষ কি হৃদপিণ্ড ছাড়াই থাকতে পারেন?
তাত্ত্বিকভাবে হয়তো অসম্ভব শোনায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

স্ট্যান ও তার ভাই উভয়ের হৃদপিণ্ড সরিয়ে ফেলা হয় এবং তাদের দাতা হার্ট প্রতিস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রযুক্তির সহায়তা প্রয়োজন হয়।

কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—
দাতা হৃদপিণ্ড পাওয়া বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
কত দিন অপেক্ষা করতে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।

এই সময়টুকু হাসপাতালে বিছানাবন্দি থেকে কি জীবন কাটানো সম্ভব?
ডাক্তাররা চাইলেন—স্ট্যান যেন চলাফেরা করতে পারে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।



চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়: পোর্টেবল কৃত্রিম হৃদযন্ত্র

অবশেষে তাকে দেওয়া হলো একটি বিপ্লবী যন্ত্র—
SynCardia Freedom Portable Driver
একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদযন্ত্র, যা রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে।

 কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য

বৈশিষ্ট্যবিবরণধরনপুরোপুরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্রবহনযোগ্যতাব্যাকপ্যাকে পিঠে ঝুলিয়ে বহনযোগ্যওজনপ্রায় ১৩.৫ পাউন্ড (৬.১ কেজি)কাজমানব হৃদপিণ্ডের বিকল্প হিসেবে রক্ত পাম্প করা

এই যন্ত্রটি মূলত স্ট্যানের বুকের ভেতরে স্থাপিত কৃত্রিম ভেন্ট্রিকলে বাতাস পাঠিয়ে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখত। ছোট করে বললে—
ব্যাকপ্যাকে থাকা এই মেশিনটাই ছিল তার হৃদপিণ্ড

এই প্রযুক্তির কারণেই
স্ট্যানকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে আটকে থাকতে হয়নি।
তিনি আবার খেলাধুলা শুরু করেন।
 স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।


অদম্য মনোবল: হার না মানা জীবনযুদ্ধ

কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বহন করেও স্ট্যান থেমে থাকেননি।

তিনি বলেন—

“আমি কখনো মেশিনটিকে বোঝা মনে করিনি। বরং এটা আমাকে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।”


তিনি বাস্কেটবল খেলেছেন, বন্ধুদের সাথে ঘুরেছেন, পরিবারের সাথে সময় কাটিয়েছেন। অনেকেই ভাবতেন, যার হৃদপিণ্ড নেই সে কীভাবে এত উচ্ছ্বসিতভাবে বাঁচতে পারে!

স্ট্যান লারকিন প্রমাণ করেছেন—
জীবনের শক্তি হৃদপিণ্ডে নয়, ইচ্ছাশক্তিতে

৫৫৫ দিনের বিশ্বরেকর্ড এবং সফল প্রতিস্থাপন

২০১৪ সালের শেষ দিকে স্ট্যান এই কৃত্রিম হৃদযন্ত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
দীর্ঘ ৫৫৫ দিন তিনি ব্যাকপ্যাকে বহনযোগ্য হৃদযন্ত্র ব্যবহার করেন—যা আজ পর্যন্ত অন্যতম দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড।

অবশেষে ২০১৬ সালের মে মাসে তার জীবনে আসে এক নতুন সূর্যোদয়।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ফ্রাঙ্কেল কার্ডিওভাসকুলার সেন্টারে
সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয় একটি নতুন মানব হৃদপিণ্ড

সেই মুহূর্ত ছিল তার পরিবারের জন্য অশ্রুভেজা আনন্দের।

ডা. জোনাথন হাফ তার সম্পর্কে বলেন—

“স্ট্যান আমাদের দেখিয়েছেন যে, রোগী যখন লড়াই করতে চায়, তখন প্রযুক্তি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।”


চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক অসাধারণ সাফল্য

স্ট্যানের এই যাত্রা শুধু একজন রোগীর বেঁচে থাকা নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক গৌরবময় অর্জন।
এটি বিশ্বকে দেখিয়েছে—
🔹 দাতা হৃৎপিণ্ড না পাওয়া পর্যন্ত রোগীদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
🔹 কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ভবিষ্যতে কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম।
🔹 প্রযুক্তি ও মানবতার মিলন আরও চমক সৃষ্টি করবে।

এ গল্প আমাদের কী শেখায়

স্ট্যান লারকিনের জীবন যেন একটি বড় শিক্ষা—
জীবনে যত বড় বিপদই আসুক, আমরা যদি লড়াই চালিয়ে যাই তাহলে আশার আলো একদিন অবশ্যই দেখা দেয়।

হৃদযন্ত্র ছাড়াই বেঁচে থাকা—এ শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জয় নয়,
এ মানুষের আত্মবিশ্বাসেরও জয়।

সমাপ্তি

স্ট্যান লারকিন আজ পুরোপুরি সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছেন।
তিনি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করছেন।

তার গল্প আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

“মানুষের প্রকৃত শক্তি হৃদপিণ্ডের স্পন্দনে নয়, তার মনোবলের স্পন্দনে।”



More article :



শহীদ হওয়ার পরও বাবা হরভজন সিং এখনো ভারতের সীমান্তে ডিউটি দেন || Even after being martyred, father Harbhajan Singh still serves on duty at the Indian border


হেমেন্দ্র মোহন বসু এক বিস্মৃত নবজাগরণের নায়ক | Hemendra Mohan Bose is a forgotten hero of the Renaissance



Hemendra mohan bose is a forgotten hero 

Comments

Popular posts from this blog

A girl was having bangla golpo

The Alexandria Feeding Bottle is a death trap of a mistaken discovery

Mandra was sitting bangla golpo