সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্য

The man who paved the way for the creation of AI he sounded a dire warning What is Geoffrey Hinton fear

  যে মানুষ AI তৈরির পথ দেখালেন, তিনিই শোনালেন ভয়ংকর সতর্কবার্তা! জিওফ্রে হিন্টনের আশঙ্কা কী? || The man who paved the way for the creation of AI, he sounded a dire warning! What is Geoffrey Hinton's fear? Geoffrey Hinton আজকের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা এবং গবেষণা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়ছে AI-এর ব্যবহার। ChatGPT-এর মতো প্রযুক্তি মানুষের কাজকে সহজ করছে, সময় বাঁচাচ্ছে এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির উন্নয়নের পেছনে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তাঁদেরই একজন এখন এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তিনি হলেন জিওফ্রে হিন্টন (Geoffrey Hinton)। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত এই বিজ্ঞানী ২০২৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে তাঁর গবেষণা আজকের আধুনিক AI প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই প্রযুক্তির ভব...

The worlds largest overhead reservoir is the Tala Tank in Kolkata

 পৃথিবীর বৃহত্তম ওভারহেড রিজার্ভার হলো কলকাতার ‘টালা ট্যাঙ্ক’।The world's largest overhead reservoir is the 'Tala Tank' in Kolkata.





Taka Tank



বিস্ময়কর টালা ট্যাঙ্ক শহরের প্রাণের আধার

কলকাতা শুধু সংস্কৃতি-সাহিত্য বা রাজনৈতিক ইতিহাসে সমৃদ্ধ নয়—এ শহরের বুকে লুকিয়ে আছে অসংখ্য প্রকৌশল-কীর্তি। তারই এক অমলিন দৃষ্টান্ত ‘টালা ট্যাঙ্ক’—যা শুধু ভারতেই নয়, সমগ্র পৃথিবীর বৃহত্তম ওভারহেড ওয়াটার রিজার্ভার হিসেবে স্বীকৃত। বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী, প্রায় শতাধিক বছরের ইতিহাস, আর লাখ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর নিরলস দায়িত্ব—সব মিলিয়ে টালা ট্যাঙ্ক কলকাতার গর্ব, বাঙালির অহংকার।

কলকাতার জল সমস্যার শুরু

১৭১৭ সালে মোঘল সম্রাট ফারুকশিয়ারের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন ৩৮টি গ্রাম অধিগ্রহণ করল, তার মধ্যেই জন্ম নিল কলকাতার ভবিষ্যৎ। কিন্তু ধীরে ধীরে শহর বিস্তার লাভের সাথে সাথে সবচেয়ে বড় সঙ্কট দেখা দিল – বিশুদ্ধ পানীয় জল।

তখন পরিষ্কার জল পাওয়ার উৎস বলতে ছিল কেবল পুকুর।
হেদুয়া, ভবানীপুর ও ওয়েলিংটনের বড় বড় পুকুর থেকে জল তুলে নাগরিকদের সরবরাহ করা হতো। কিন্তু জনসংখ্যা যত বাড়ল, প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ পূরণ করা ততই অসম্ভব হয়ে উঠল।

একটি স্বপ্নের সূচনা

১৯০১ সালে শহরের তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ার মিস্টার ডেভেরাল বড়সড় একটি ট্যাঙ্ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন।
পরের বছর কলকাতা কর্পোরেশন সেই পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

১৯০৩ সালে ডব্লিউ বি ম্যাককাবে পরিকল্পনার আরও উন্নয়ন করেন এবং তখনকার হিসাব অনুযায়ী বিশাল প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ৬৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৭৪ টাকা—যা সেই সময়ের জন্য ছিল অবিশ্বাস্য পরিমাণ।

জমি দিলেন একজন দানবীর

ট্যাঙ্ক কোথায় তৈরি হবে?
যেখানে আজ টালা ট্যাঙ্ক দাঁড়িয়ে—সেখানে এক সময় ছিল বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও পুকুর। সেগুলি ভরাট করে তৈরি করা হয় শক্ত ভিত্তি। আর সেই ৪৮২ একর জমি সমাজহিতৈষী মহান মানুষ বাবু খেলাত চন্দ্র ঘোষ বিনামূল্যে দান করেছিলেন।

বলতেই হয়—কলকাতা তার জল পেয়েছে একজন দানবীরের উদারতায়।

শিলান্যাস থেকে উদ্বোধন

১৯০৯: তৎকালীন গভর্নর স্যার এডওয়ার্ড বেকার শিলান্যাস করেন


১৯১১: ট্যাঙ্ক উদ্বোধন এবং শহরে জল সরবরাহ শুরু


আজও সেটাই শহরের প্রধান জল সরবরাহের হৃদপিণ্ড হিসেবে কাজ করছে।

অবিশ্বাস্য স্থাপত্য

টালা ট্যাঙ্ককে অন্য সবকিছুর থেকে আলাদা করে তার আর্কিটেকচারাল জিনিয়াস।

✔ ট্যাঙ্কের আকার — ৩২১ ফুট × ৩২১ ফুট
✔ ক্ষেত্রফল — ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪১ স্কোয়ারফিট
✔ উচ্চতা — ১০ তলা বাড়ির সমান প্রায়
✔ ধারণক্ষমতা — ৯০ লক্ষ গ্যালন (প্রায় ৪ কোটি লিটার) জল
✔ জলের গভীরতা — ১৬ ফুট পর্যন্ত
✔ কম্পার্টমেন্ট — ৪টি, যাতে একটি পরিষ্কার করার সময়ও অন্যগুলিতে জল সরবরাহ বন্ধ না হয়

এক কথায়, এর ভিতর অনায়াসে একটি সম্পূর্ণ ফুটবল স্টেডিয়াম ঢুকে যেতে পারে!





টাইটানিকের লোহা, কিন্তু বেশি শক্তিশালী কাঠামো

টালা ট্যাঙ্কের নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছিল টাইটানিক জাহাজে ব্যবহৃত একই মানের স্টিল।
স্টিলের কাজ করেছে ইংল্যান্ডের Clittenson & Co.

কিন্তু বিস্ময় এখানেই শেষ নয়—

 পুরো ১০ তলা ট্যাঙ্কটি স্ক্রু-নাট ছাড়াই কাঠের পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে আছে!

প্রথমে ছাদ ছিল চুনসুরকির। পরবর্তীতে ১৪ ইঞ্চি পুরু কংক্রিটের ছাদ যোগ করা হয়, তবুও তার স্থায়িত্বে কোথাও ছেদ পড়েনি।

নির্মাণে যুক্ত ছিলেন:

টি সি মুখার্জি এন্ড কোম্পানি — ভিত্তিকাজ


মার্টিন এন্ড কোম্পানি — কংক্রিটের ফাউন্ডেশন


আরাকন এন্ড কোম্পানি ও কালীশঙ্কর মিত্তির — ছাদ নির্মাণ


প্রকৌশলে কলকাতার স্বনির্ভর অধ্যায়েরও এটি এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

যুদ্ধ-বিপর্যয়েও অটল

টালা ট্যাঙ্ক যেন শক্তিমত্তার জীবন্ত প্রতীক।

✔ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা বোমা ফেলেছিল →
শুধু ৯টি ছিদ্র, কিন্তু ট্যাঙ্ক অটুট!

✔ ১৯৬২ ও ১৯৭১—দুটি যুদ্ধেই
চীন ও পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল এই ট্যাঙ্ক
কারণ ট্যাঙ্ক ধ্বংস হলেই কলকাতার প্রাণধারা থেমে যাবে।

✔ একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পেও
এক খণ্ডও ভাঙেনি এর।

যেন লোহার দানব, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে।


Taka Tank


কলকাতার প্রতিটি শ্বাসে টালা ট্যাঙ্ক

দমদম থেকে দক্ষিণ কলকাতা—ওয়াটার পাইপের বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্ক যুক্ত এই ট্যাঙ্কের সঙ্গে।
আজও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরে জল পায় এই ট্যাঙ্কের শক্তিবলে।

বাড়ির রান্নাঘর, কলেজের ক্যান্টিন, হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ড—সব জায়গার জল আসে টালা ট্যাঙ্কের বুকে সঞ্চিত বিশুদ্ধতার স্রোত থেকে।

এ যেন জল নয়—জীবনের স্পন্দন।

ইতিহাস, প্রযুক্তি এবং মানবিক দায়িত্বের বিরল সমন্বয়

টালা ট্যাঙ্ক শুধু প্রকৌশল-চমৎকার নয়; এটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সে দেখেছে:

▪ কলকাতার গড়ে ওঠা
▪ মেট্রো রেল নামা
▪ শিল্পায়ন, আধুনিকতা, যুদ্ধ, বিপর্যয়
▪ এবং সবশেষে নাগরিক জীবনের পরিণতি

এত প্রতিকূলতা পেরিয়েও এখনো দাঁড়িয়ে আছে অম্লান গৌরবে—শুধু দাঁড়িয়ে নয়, মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছে প্রতিদিন।

শেষ কথায়

একটা শহর গড়ে ওঠে তার মানুষের স্বপ্ন, ঘাম আর পরিশ্রমের উপর।
আর সেই শহর বাঁচিয়ে রাখে জল।

টালা ট্যাঙ্ক তাই শুধু একটি বিশালাকার স্ট্রাকচার নয়—
এটি কলকাতার আত্মা,
এটি বাঙালির গর্ব,
এটি মানব সভ্যতার জন্য এক অসাধারণ উদাহরণ।

আজও আকাশের দিকে তাকালে দেখা যায়—
ইতিহাসের সেই দৈত্যাকৃতি জলাধার
গর্বভরে জানিয়ে দেয়—


👉 “আমি আছি। জল আছে। জীবন আছে।”



More suggest page 

স্ট্যান লারকিন মানব হৃদপিণ্ড ছাড়াই ৫৫৫ দিনের অবিশ্বাস্য জীবন | Stan Larkin's incredible life of 555 days without a human heart




মঙ্গল গ্রহের বিশাল ক্ষতচিহ্ন — ভ্যালেস মেরিনারিস || The giant scar on Mars — Valles Marineris


অভিজ্ঞতার মহিমা এক অদ্ভুত দেশের অমূল্য শিক্ষা | The glory of experience is the invaluable lesson of a strange country


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ